শরীয়তপুরের সখিপুর থানার মাদ্রাসাছাত্রী ছয় বছরের শিশু তায়েবাকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবিতে ঢাকার সখিপুর থানার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২৪ সেপ্টেম্বর পারিবারিক কলহের জেরে আপন চাচি আয়েশা খাতুন শিশু তায়েবাকে হত্যা করে পাশের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে। নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর দুপুরে এলাকাবাসীর অভিযানে শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হয়। হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষ সাক্ষীর জবানবন্দিতেও একই তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। তাদের মতে, পুলিশ প্রথম থেকেই গাফিলতি দেখিয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে প্রধান আসামিকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে।
বক্তারা বলেন, নিখোঁজের পর তায়েবার বাবা থানায় জিডি করলেও পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। যদি উদ্যোগ নিত, শিশুকে হয়তো জীবিত উদ্ধার করা যেত। প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির না করে প্রায় ৪৭ ঘণ্টা বিলম্ব করা হয়, যা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার, মামলার সাক্ষী ও বিচার দাবি করা স্থানীয়দের আসামিপক্ষের লোকজন নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে, অথচ পুলিশ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। হত্যাস্থল চিহ্নিতকরণ, আলামত সংগ্রহ, মোবাইল কল রেকর্ড যাচাই ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় গড়িমসি চলছে। থানার ওসি ও জেলা পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা ও মূল আসামিকে আড়াল করার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। ১ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনেও হত্যার স্থান, আসামিদের জবানবন্দি, রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য ও আলামত সংগ্রহ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না থাকায় সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করে বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তথ্য উদঘাটনে দ্রুত উচ্চতর তদন্ত টিম গঠন এবং মামলাটি নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করে দ্রুত রিমান্ডে এনে হত্যার নেপথ্যের সব দোষীকে চিহ্নিত করতে হবে। ভুক্তভোগী পরিবার ও বিচারের দাবিতে সোচ্চার এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মামলার কার্যক্রম থেকে সখিপুর থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। প্রভাবশালীদের প্রভাব খাটানো বন্ধ করে আইন অনুযায়ী আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।