ইসরায়েল সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইরানে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে সশস্ত্র হামলার অভিযোগে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরান সম্প্রতি দ্রুতগতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ আছে তাদেরকে। গত জুন মাসে ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে এই পদক্ষেপ জোড়ালোভাবে নেওয়া হচ্ছে।

বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট মিজানে শনিবার বলা হয়, ‘খুজেস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা টার্গেট করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সশস্ত্র ও বোমা হামলা চালানো ছয়জন বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীর মৃত্যুদণ্ড আজ ভোরে কার্যকর করা হয়েছে।’

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও বেশ কিছু নিরাপত্তাকর্মীকে হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল। তারা আরও স্বীকার করেছে যে, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নকশা ও বাস্তবায়নে জড়িত ছিল, যেমন—বিস্ফোরক তৈরি ও স্থাপন, খোররামশাহরের একটি গ্যাস স্টেশন উড়িয়ে দেওয়া, ব্যাংকে সশস্ত্র হামলা, সামরিক কেন্দ্রগুলোতে গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং মসজিদে গুলি চালানো।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার পাশাপাশি, এ ব্যক্তিরা জায়োনিস্ট শাসনব্যবস্থার (ইসরায়েল) সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি এজেন্টদের কাছ থেকে সহায়তা পেত।

মিজান জানায়, তারা ২০১৮ ও ২০১৯ সালে দুই পুলিশ কর্মকর্তা এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর দুই সদস্যসহ চারজন নিরাপত্তা কর্মী হত্যায় জড়িত ছিল।

শনিবার আলাদা একটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর তরা হয় যেখানে কর্তৃপক্ষ কুর্দি যোদ্ধা সামান মোহাম্মাদিকে ফাঁসি দেয়। তাকে ‘মোহারেবা’ অর্থাৎ আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

মোহাম্মাদি ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাকে ২০০৯ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় সানানদাজ শহরে জুমার খুতবার ইমাম হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এছাড়া তিনি সশস্ত্র ডাকাতি ও অপহরণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়, যার মধ্যে একজন সেনা সদস্য হত্যাও অন্তর্ভুক্ত।

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের গোপন যুদ্ধ এবং এ বছরের জুনের পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, ইরান অনেক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে মোসাদের সঙ্গে যোগসাজশ ও দেশটিতে এর কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

জুনের যুদ্ধে ইসরায়েল ১২ দিন ধরে বিমান হামলা চালায়, যার মধ্যে ইরানের জ্যেষ্ঠ জেনারেল, পরমাণু বিজ্ঞানী ও আবাসিক এলাকায় সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের পক্ষে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালায়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ১০০ জন নিহত হয়।