গত ১৩ দিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশ থেকে ১৪৫ টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মাছ আমদানিকারকরা বলছেন, এবারই ভারতে বাংলাদেশের ইলিশ রপ্তানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিলেও গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বেনাপোল ও আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে ১৪৪ টন ৪৮৯ কেজি ইলিশ প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ত্রিপুরায় গেছে ৩৯ টন ২৭৫ কেজি ইলিশ আর বেনাপোল দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসেছে ১০৫ টন ২১৪ কেজি। ৫ অক্টোবরের মধ্যে রপ্তানি শেষ করার কথা থাকলেও ৪ অক্টোবর রাত থেকে রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় পাঁচ দিন সব বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ইলিশ আমদানির জন্য মাত্র ১৩ দিন সময় পাওয়া যায়।
পশ্চিমবঙ্গ ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ক্রেতাদের চাহিদা থাকলেও ন্যায্য মূল্যে ইলিশ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ইলিশ আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারে ২৪০০ থেকে ২৫০০ রুপি দরে ইলিশ বিক্রিতে হিমশিম খেতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশের বাজারে এবার ইলিশের দাম বেশি থাকায় রপ্তানিকারকেরাও বেশি দামে মাছ রপ্তানিতে আগ্রহ দেখাননি।
বাংলাদেশ সরকার ৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ১২ ডলার মূল্যে ৫ অক্টোবরের মধ্যে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেয়। সেই অনুযায়ী, ১৭ সেপ্টেম্বর ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশের প্রথম চালান ভারতে আসে। এরপর পর্যায়ক্রমে সাত দফায় ইলিশ আসে। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর মাত্র ৪ টন ৫২০ কেজি ইলিশ রপ্তানি হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রপ্তানি হয় ১ টন ৭২০ কেজি ইলিশ। একই সময়ে ত্রিপুরায় আট দফায় মোট ৩৯ টন ২৭৫ কেজি ইলিশ যায়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই মাসে আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে চিঠি দিয়ে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানাই। কিন্তু এবার তার চেয়েও কম সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুর্গাপূজা শুরু হওয়ায় পাঁচ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। এবারের মতো এত কম ইলিশ অতীতে কখনো আসেনি। গত বছর বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ৫৭৭ টন ইলিশ আমদানি হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও গত পাঁচ বছর ধরে ভারতে ইলিশ রপ্তানি কমছে। গত বছর বাংলাদেশ সরকার ২ হাজার ৪২০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিলেও সময়স্বল্পতার কারণে মাত্র ৫৭৭ মেট্রিক টন আমদানি করা সম্ভব হয়।