মুসলমানদের জন্য রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা মুমিনের তাকওয়া (আত্মসংযম) বৃদ্ধির পাশাপাশি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের একটি মাধ্যম। ফরজ রোজার পাশাপাশি নফল রোজাগুলোর মধ্যে আইয়ামে বীজের রোজা (আরবিতে আইয়ামুল বীজ) গুরুত্ব অনেক বেশি। আইয়ামে বীজ বলতে হিজরি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রাখা নফল রোজাকে বোঝায়। এই দিনগুলোতে চাঁদ উজ্জ্বল ও প্রায় পূর্ণ থাকে, তাই এটি ‘উজ্জ্বল দিনের রোজা’ নামে পরিচিত।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে আব্দুল্লাহ! তোমার জন্য যথেষ্ট যে তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা হয়ে যায়।
প্রতি চন্দ্র মাসে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। আইয়ামুল বিজ তথা প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫তম দিন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো এ রোজাগুলো ছাড়তেন না। এমনকি সফরেও। তবে রোজাগুলো ফজিলতপূর্ণ হলেও রোজা বাধ্যতামূলক নয়। হাদিসে রয়েছে।
‘তুমি যদি (প্রতি) মাসে তিনটি রোজা রাখতে চাও, তাহলে ১৩, ১৪ ও ১৫তম দিনে রোজা রাখবে।’ (তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, মুসনাদে আহমাদ)
সতর্কতা
নিষিদ্ধ দিন এড়ানো: আইয়ামে বীজের রোজা যদি ঈদের দিন বা তাশরিকের দিনের (১১, ১২, ১৩ জিলহজ) সঙ্গে মিলে যায়, তবে রোজা রাখা যাবে না।
শারীরিক সামর্থ্য: শারীরিকভাবে সক্ষম না হলে রোজা না রাখা। রাসুল (সা.) বলেছেন, “দিনে রোজা রাখো, তবে নিজেকে ধ্বংস করো না।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৭৬)
আন্তরিকতা: রোজা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য রাখা এবং লোকদেখানো থেকে বিরত থাকা।
রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে এই রোজা মুমিনের আধ্যাত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত ইবাদতের কোনো বিকল্প নেই।
আইয়ামে বিজের রোজার পুরস্কার
হজরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আন প্রতিদিন রোজা রাখতেন। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে প্রতিদিন রোজা রাখতে নিষেধ করেন এবং উপদেশ দেন এভাবে
‘হে আবদুল্লাহ! আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে তুমি প্রতিদিন রোজা রাখো এবং সারা রাত নামাজ আদায় করে থাক। আমি বললাম, ঠিক (শুনেছেন) হে আল্লাহর রাসুল! তিনি বললেন- এরূপ করবে না (বরং মাঝে মাঝে) রোজা রাখো আবার ছেড়েও দাও। (রাতে) নামাজ আদায় করো আবার ঘুমাও। কেননা তোমার ওপর তোমার শরীরের হাক্ক রয়েছে, তোমার চোখের হাক্ক রয়েছে, তোমার ওপর তোমার স্ত্রীর হাক্ক আছে, তোমার মেহমানের হাক্ক আছে। (বরং) তোমার জন্য যথেষ্ট যে তুমি প্রত্যেক মাসে তিন দিন রোজা রাখবে। কেননা নেক আমলের বদলে তোমার জন্য রয়েছে দশগুণ নেকি। এভাবে সারা বছরের রোজা পালন হয়ে যায়। (বুখারি)
হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুম অমান্য করে বেহেশতের নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করার পর তাদের শরীর থেকে জান্নাতের পোশাক খুলে যায় এবং তাদের শরীরের রং কুৎসিত হয়ে যায়। অতঃপর হজরত আদম ও হাওয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহর হুকুমে চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখলে আবার তাদের শরীরের রং পূর্বের ন্যায় উজ্জ্বল হয়ে যায়।
জান্নাতের একটি দরজা রয়েছে। যেটির নাম রাইয়্যান। কিয়ামতের দিন শুধু রোজা পালনকারীরা ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন ঘোষণা করা হবে, রোজা পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়িয়ে যাবে ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করার জন্য। তারা প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। (বুখারি শরীফ)