সরকার ঘোষিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের সুরক্ষা স্কিমে এখন থেকে বাড়তি চাঁদা দিতে পারবেন পেনশন গ্রহীতারা। এতদিন এই স্কিমে চাঁদার হার ৫ হাজার টাকা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটা ১৫ হাজার টাকা অনুমোদন করেছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদ।
আজ সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পেনশন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় পেনশন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অর্থ বিভাগের সচিব, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দীন খান, অর্থ বিভাগসহ পেনশন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, জাতীয় পেনশনের সুরক্ষা স্কিমটি মূলত আত্মকর্মসংস্থান ক্যাটাগরির নগরিকেদের জন্য। যেখানে অনেক নিম্নআয়ের পাশাপাশি উচ্চআয়ের অনেক মানুষ রয়েছেন। উচ্চআয়ের মানুষদের আকৃষ্ট করার জন্যই চাঁদার হার ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
এদিকে আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের পেনশন স্কিমে সম্পৃক্ত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। আউটসোর্সিং সেবাকর্মীগণ প্রগতি স্কিমে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। প্রগতি স্কিমের সর্বনিম্ন মাসিক চাঁদার হার ১ হাজার টাকা হলেও আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের জন্য তা সহনীয় করার লক্ষ্যে তা আরও কমানো হয়েছে। শুধু আউটসোর্সিং সেবাকর্মীদের জন্য প্রগতি স্কিমে সর্বনিম্ন মাসিক চাঁদার হার কমিয়ে ৫০০ টাকা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সামর্থ থাকলে ১ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ারও সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ইসলামিক ভার্সন চালুর বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ধারনাপত্র তৈরির কাজ চলছে। দ্রুতই এই উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পেনশন স্কিমে বীমা সুবিধা চালু করা যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে বলেও সবায় আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়েও একটি ধারনাপত্র তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এ সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মুনাফা ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৩০ পর্যন্ত সর্বমোট ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৮৭ জন চাঁদাদাতার মাসিক চাঁদা এবং ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের প্রারম্ভিক স্থিতিসহ মোট জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক শ সাতাশি কোটি সাতানব্বই লক্ষ নব্বই হাজার চুয়ান্ন টাকা পনের টাকা। জমাকৃত অর্থের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের মুনাফার পরিমাণ ১৬ কোটি তেত্রিশ লক্ষ চার হাজার তেইশ টাকা।
পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ায় বিনিয়োগ সময়কালের ভিত্তিতে হিস্যা অনুযায়ী প্রাপ্য বিনিয়োগ মুনাফা বিনিয়োগকারীগণের পেনশন হিসাবে প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। চাঁদাদাতারা তাদের পেনশন আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রাপ্ত মুনাফার পরিমাণ দেখতে পারবেন। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে সর্বোচ্চ মুনাফা প্রাপ্তির হার ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ।