বিএনপির সাবেক মহাসচিবের স্বজনদের থেকে চাঁদা আদায়!

বিএনপির সাবেক মহাসচিব মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিবারকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত শুক্রবার রাতে হাতিরঝিল নয়াটোলা গ্রিনওয়ে এলাকার ৬৫৩ নম্বর বাসার চতুর্থতলার ৪/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ওই বাসায় সাবেক বিএনপি নেতা মরহুম খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্র মরহুম খন্দকার আব্দুল হামিদ ডাবলুর স্ত্রী মিতুলের বোন থাকতেন।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ওই রাতে কথিত যুবদল কর্মী শাওন (২৫), হাবিব (৩৫), সাজিদ (২২) ও সানি (৩৫) বাসায় এসে চাঁদা দাবি করেন। পরে তারা চাঁদা নিয়ে চলে যাওয়ার সময় বাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। না হলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। গতকাল সোমবার খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পুত্রবধূ তানজিল হামিদ মিতুল বলেন, পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে এক লাখ টাকা চাঁদা চান শাওন নামের এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা। টাকা নেওয়ার সময় শাওন হাতিরঝিল থানা যুবদলের নেতা এবং তাদের সঙ্গে থাকা হাবিব নামের আরেকজন একই থানা যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন।

মিতুল জানান, বাসায় টাকা না থাকায় সিটি ব্যাংকের বুথ থেকে ৮০ হাজার উত্তোলন ও ২০ হাজার টাকার চেক দিতে হয় চাঁদাবাজদের।

মিতুল বলেন, ‘ওইদিন রাতে আমার বড় বোন শারমিন ওয়াদুদ নিপা ফোন করে জানান তার জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ টাকা দরকার। এমন ফোন পেয়ে ওই রাতেই তার বাসায় গিয়ে দেখি চার যুবক চাঁদার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে শাওন কোমরে থাকা দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। আমি বলি তুমি চেনো আমাদের? তোমরা কারা? তখন উল্টো তারা বলে, আপনি বুঝতেছেন না? এখন সময়টা কী? এরপর মরহুম ডাবলু ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের পরিচয় দেওয়ার পর আরও খারাপ আচরণ করে। এ সময় মোবাইল কেড়ে নেয়। কাউকে ফোন করতেও দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘ভয়ে রাতে মগবাজার সিটি ব্যাংকের বুথ থেকে ৮০ হাজার টাকা তুলে সানিকে এবং আরও ২০ হাজার টাকার একটি চেক (চেক নং ৪১০৩১৭৩) দেওয়া হয়। তবে সেটা এখনো ক্যাশ করেছে কি না, জানতে পারিনি। পরের দিন শনিবার রাতে আবারও বড় বোনের বাসায় এসে ফ্ল্যাট খালি করার জন্য হুমকি দিয়ে গেছে। তারা বলেছে, আগামী মাসের মধ্যে ফ্ল্যাট খালি না করলে তাদের হত্যা করা হবে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার দুদিন পার হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি এখন পর্যন্ত অভিযোগ মামলা হিসেবে নথিভুক্তই হয়নি। তবে পুলিশ যোগাযোগ রাখছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিরঝিল থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, চাঁদাবাজির একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্তসহ রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। শনাক্তের পর মামলা হবে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। খন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিএনপি ষষ্ঠ মহাসচিব ছিলেন।