সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির মাধ্যমে শিশুদের স্মৃতিশক্তি উন্নত করা যায়। একটি সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে তাদের খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। শিশুকে পড়াশোনা এবং খেলাধুলায় সক্রিয় রাখুন, যাতে তাদের মন তীক্ষè এবং সক্রিয় থাকে। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যকর খাওয়া সুস্থ মস্তিষ্কের চাবিকাঠি।
সবুজ শাক-সবজি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এর মধ্যে পালং শাক, মেথি এবং ব্রকলির মতো সবুজ শাক-সবজি শিশুদের মস্তিষ্ককে সুস্থ ও তীক্ষè করে। এসব শাকের মধ্যে রয়েছে আয়রন, ফোলেট এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা মস্তিষ্কের কোষকে সক্রিয় রাখে। শিশুরা শাক-সবজি স্যুপ, পরোটা বা সবজি আকারে খাওয়াতে পারেন। দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য যেমন দই, পনির ও ঘি শিশুদের মানসিক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। দুধে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন বি ১২ থাকে, যা নিউরো ট্রান্সমিটার গঠনে সহায়ক। শিশুদের প্রতিদিন এক গ্লাস দুধ খাওয়ার অভ্যাস করুন। ফল বিশেষ করে ব্লুবেরি, কমলা, আপেল এবং ডালিমের মতো ফলগুলো শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এই ফল ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা মানসিক চাপ কমায় এবং মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটায়। শিশুদের প্রতিদিন অন্তত একটি ফল দিন। বাদাম শিশুদের মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধিতে সবচেয়ে কার্যকরী। এতে ভিটামিন-ই, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়, যা মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও তীক্ষè করে তোলে। সকালে শিশুদের ২-৩টি ভিজিয়ে রাখা বাদাম খাওয়ালে তাদের স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয়। এছাড়াও আখরোটও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে। শিশুদের প্রতিদিন ২টি আখরোট খাওয়ান, যাতে তাদের মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করে।