নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ জন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। ঢাকায় নাশকতা তৈরির উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ থেকে ছাত্রলীগের এই নেতাকর্মীরা এসেছেন।
গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
ডিসি তালেবুর বলেন, গ্রেপ্তাররা হলো, ছাত্রলীগ নেতা চঞ্চল মিয়া ওরফে এনায়েত করিম চঞ্চল, ছাত্রলীগ নেতা রাশিদুল ইসলাম রন্টি, ছাত্রলীগ নেতা শাহিদ কাজী, ছাত্রলীগ নেতা রাজীব শিকদার, ছাত্রলীগ নেতা রায়হান পাইক, ছাত্রলীগ নেতা রবিউল মিয়া ও ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সহ
সম্পাদক রাকিব হোসেন জমাদার। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ কর্মী হান্নান মিয়া, মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার মধ্যপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ইসলাম বেপারী, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক ও কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার পৌর যুবলীগের ৬নং ওয়ার্ডের সহসভাপতি গোলাম মোহাম্মদ সুজন।
ডিএমপি জানায়, ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নাশকতামূলক কর্মকা-ের মাধ্যমে জনমনে ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে ঢাকায় এসে তারা অবস্থান নেন। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থেকে ঢাকায় এসে লোকজন সংগ্রহ করত এবং বিভিন্ন ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণ করত। এ ছাড়া তারা গোপনে বিভিন্ন দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার রাতে ডিবি রমনা বিভাগ হাতিরপুল এলাকা থেকে চঞ্চল মিয়া, রাশিদুল ইসলাম রন্টি, হান্নান মিয়া, শাহিদ কাজী, রাজীব শিকদার, রায়হান পাইক ও রবিউল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। ডিবি ওয়ারী বিভাগ হাটখোলা রোড থেকে ইসলাম বেপারীকে ও মাহফুজুল হককে গ্রেপ্তার করে। অপরদিকে ডিবি মিরপুর বিভাগ শাহবাগ এলাকা থেকে গোলাম মোহাম্মদ সুজনকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া ডিবি-গুলশান বিভাগ কাফরুল থেকে রাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে তোলে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় বলেও জানান ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।