গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, প্রত্যেক দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীর উৎসব ভাতা, ঈদ বোনাস, তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটি সহ অন্যান্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা এবং সর্বোপরি চাকরির নিশ্চয়তা দিতে হবে। এগুলো প্রত্যেক শ্রমিকের অধিকার।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়িতশাসিত প্রতিষ্ঠানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরতদের বয়স শিথীল করে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীকরণের দাবিতে’ বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।
সমাবেশের পর দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের নেতাকর্মীরা সচিবালয়ে অর্থ সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি জমা দেন।
সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারিদের কাজে নেওয়ার সময় নিয়োগপত্র দেওয়া হয় না। কর্মকর্তারা তাদের ইচ্ছামতো বিদায় করে দেয়। তাদের বেতনের কোনো ঠিক নেই। তারা ৩০ দিন কাজ করে ২২ দিনের বেতন পান ২২ দিনের। সাপ্তাহিক ছুটি ২ দিন কেউ পান না। যদি ৩০ দিন কাজ করানো হয়, ৩০ দিনের বেতন দিতে হবে। যদি মাসে ৪ দিন ছুটি ধরে ২৬ দিনের বেতন দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই ৪ দিনের সাপ্তাহিক ছুটি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কর্মচারি ভাই-বোনদের পরিবার আছে, সন্তান আছে। তাদেরও তাদের পরিবারের সাথে সময় কাটাতে হয়। তারা অসুস্থ হয়, তাদের বিশ্রামের প্রয়োজন আছে। তাদের জন্য সরকারের নীতিমালা তৈরি করতে হবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, এখানে অনেকের নামে বেতন তোলা হয়, কিন্তু তারা কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন না। সরকারি টাকা ঠিকই লোপাট হয়, কিন্তু কর্মচারী শ্রমিকদের জীবনের কোন উন্নতি হয় না। তিনি আরও বলেন, আমাদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা তা আমরা আদায় করে নেবো। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মেহনতি কর্মচারী, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হলে অভ্যুত্থানের বাংলাদেশ তার অর্জন নিশ্চিত হবে না। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই আমরা চালিয়ে যাব এবং সেইভাবেই বাংলাদেশ তৈরি করব।
বাংলাদেশ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বহুমুখী শ্রমজীবি শ্রমজীবী ও হকার সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূইয়াসহ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ।