এই হারের সবচেয়ে বেশি দায় আমারই, বললেন কাবরেরা

হংকংয়ের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ মুহূর্তের গোল হজম করে ৪–৩ ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। শুরুতে এগিয়ে থেকেও জয় বা অন্তত ড্র ধরে রাখতে না পারার হতাশা যেন গিলে খেল পুরো দলকে। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হারের দায় নিজের কাঁধেই নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।

‘আমি সব দায় নিচ্ছি, পুরো দলও নিচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দায় আমারই,’ বলেন কাবরেরা। তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই হারের কারণ বোঝানো কঠিন। তবে শুরুটা ভালো ছিল, প্রথম পাঁচ মিনিটের পর আমরা দুর্দান্ত খেলেছি। আমার কোচিং ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের এটিই সম্ভবত সেরা প্রথমার্ধ।’

ম্যাচের শুরুতে ফ্রি–কিক থেকে হামজা চৌধুরীর গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথমার্ধের শেষ দিকে হংকং ম্যাচে ফিরলে দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে ৩–১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় অতিথিরা। এরপর শেখ মোরসালিন ও শমিত সোমের গোল বাংলাদেশকে ফেরায় সমতায়। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে শমিতের গোলটি যেন এক পয়েন্টের আশার আলো জ্বালায়। কিন্তু রেফারির শেষ বাঁশি বাজানোর আগমুহূর্তেই রাফায়েল মেরকিসের হ্যাটট্রিক পূরণের গোল বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।

হামজা চৌধুরী। ছবি- দেশ রূপান্তর

শেষ দুই মিনিট রক্ষণ সামলাতে না পারার ব্যাখ্যায় কাবরেরা বলেন, ‘এটা শুধু ডিফেন্ডারদের দোষ নয়। গোলের পরিস্থিতিগুলো অনেকাংশে পুরো দলেরই সমন্বয়গত ভুলের ফল।’

হারের পরও কাবরেরা আশাবাদী। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের মনোযোগ পরবর্তী ম্যাচে দিতে হবে। ১৪ অক্টোবর হংকংয়ের মাঠে আমরা ফিরতি ম্যাচ খেলব। জিততে পারলে আমরা আবারও গ্রুপের সেরা তিনে চলে আসতে পারব।’

তবে নিজের কৌশল নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন বাংলাদেশ কোচ। কেন শুরুর একাদশে দারুণ ফর্মে থাকা শমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে নামানো হয়নি—এই প্রশ্নে কাবরেরা ব্যাখ্যা দেন, ‘শমিত প্রায় দুই মাস ইনজুরিতে ছিল। আমরা চেয়েছি ও যেন পরের ম্যাচে পুরো ফিট থাকে। অতিরিক্ত চাপ দিতে চাইনি। আর এভারটনের বিপক্ষে প্রথমার্ধে সাদকে রাখার পরিকল্পনা ছিল, যাতে শারীরিক লড়াইয়ে ভারসাম্য রাখা যায়।’

হংকং কোচ অ্যাশলি ওয়েস্টউডও বাংলাদেশের ভুলগুলোর দিক নির্দেশ করেন, ‘প্রতিটি গোলই কোনো না কোনো ভুলের ফল। আমাদের দ্বিতীয় গোল এসেছে বাংলাদেশের গোলরক্ষকের ভুলে, প্রথমটি ভুল যোগাযোগের কারণে। আমি শুধু আমার দলের ভুলগুলো ঠিক করায় মনোযোগ দিতে চাই।’

তিন ম্যাচে এক ড্র ও দুই হারে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ‘সি’ গ্রুপের তলানিতে বাংলাদেশ। ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে হংকং, ৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে সিঙ্গাপুর। ভারতের পয়েন্ট ২। গাণিতিক সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে বাংলাদেশ দলের পথটা এখন অনেক কঠিন। তবু কোচ কাবরেরা বলছেন—“যতক্ষণ সুযোগ আছে, আমরা লড়ব।”