রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে ডায়াবেটিসের মতো সমস্যাও তো নীরব ঘাতকের মতো। সুস্থ থাকতে গেলে দুটিকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। দুই ধরনের সমস্যার জন্য আলাদা দুটি ওষুধও রয়েছে। তবে হেঁশেলের একটি মাত্র উপাদান দিয়েই যদি ব্যাড কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলা যায়, তা হলে মন্দ হয় না। মসলাটি হলো মেথি।
হার্টের সমস্যায় মেথি
মেথির মধ্যে রয়েছে সলিউবল ফাইবার। যা খারাপ কোলেস্টেরলকে অন্ত্রের মধ্যেই আটকে দেয় এবং রক্তে মিশতে দেয় না। ফলে ধমনীতে প্লাক বিল্ড-আপ হওয়ার ঝুঁকি কমে। খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি অর্থাৎ, ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে মেথি। এর ফলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। ফ্ল্যাভোনয়েডস, পলিফেনলের মতো অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান রয়েছে মেথিতে। যা অত্যন্ত শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যা এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বশে রাখতে সাহায্য করে এই মসলা।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মেথি
মেথিতে থাকা সলিউবল ফাইবার। যা অন্ত্রে গিয়ে থকথকে জেলের মতো পদার্থ তৈরি করে, যা কার্বোহাইড্রেট পরিপাক এবং শোষণ করার গতি শ্লথ করে দেয়। ফলে খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
কার্বোহাইড্রেট বা মিষ্টিজাতীয় খাবার থেকে যে পরিমাণ গ্লুকোজ পাওয়া যায়, তা শারীরবৃত্তীয় কাজে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হওয়া প্রয়োজন। তার জন্য ইনসুলিন সেন্সিটিভিটি ভালো হওয়া চাই। মেথি সে কাজেও সাহায্য করে। মেথির মধ্যে যে পরিমাণ ফাইবার রয়েছে, তা দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি রাখতে সাহায্য করে। বারবার খিদে না পেলে ক্যালোরি ইনটেকও কম হবে। একই সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
যেভাবে খাবেন : পরিষ্কার কাচের পাত্রে ১ থেকে ২ চা চামচ মেথি দানা পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখুন। আগের দিন রাত থেকে ভেজাতে পারলে ভালো হয়। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এই পানীয় খেতে পারলে উপকার পাবেন।