ইসরায়েলের তেলআবিবে বিশাল সমাবেশে ট্রাম্পের প্রশংসা

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও হামাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে শনিবার তেলআবিবে লাখ লাখ মানুষের এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে যোগ দিয়ে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জিম্মিদের ফিরে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং এই অগ্রগতির কৃতিত্ব দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে।

ফিলিস্তিনি সূত্রমতে, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পর গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজার উত্তরাঞ্চলে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ফিরে এসেছেন। এদিকে, মিশর যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে একটি শীর্ষস্থানীয় বৈঠকের আয়োজন করেছে। মিশরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছে যে সোমবার শারম আল-শেখে এই বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ প্রায় বিশজন বিশ্ব নেতা অংশ নেবেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

মিশরে যাওয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েল সফর করবেন। শনিবারের তেলআবিব সমাবেশে তার কন্যা ইভাঙ্কা ও জামাতা জ্যারেড কুশনারও বক্তব্য রাখেন।

যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির আওতায় হামাসকে স্থানীয় সময় সোমবার বারটা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে মোট ৪৮ জন জিম্মির মধ্যে বাকিদের মুক্তির জন্য। এদের মধ্যে ২০ জনকে জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে। হামাসের একজন শীর্ষ নেতা ওসামা হামদান এএফপিকে জানান, চুক্তি অনুযায়ী সোমবার সকালেই বন্দি বিনিময় প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আভিভ হাভরনের পরিবারের সাত সদস্য ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় নিহত হন। তার পরিবারের আরও সাতজনকে অপহরণ করা হয়েছিল। তেলআবিবে বিবিসিকে তিনি বলেন, তারা ফিরে আসছে, এটি সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা ছাড়া আমরা আমাদের জীবন আবার শুরু করতে পারি না। আমার বোন ও দুই ভগ্নীপতি নিহত হয়েছেন। পরিবারের সাতজনকে অপহরণ করা হয়েছে। আমার বড় বোন, তার মেয়ে এবং নাতিকেও অপহরণ করা হয়েছে। আমাদের সম্প্রদায়ের চার সদস্যের মরদেহ এখনও গাজায় রয়েছে।

শুলামিত ও ডেভিড গিনাট বলেন, তারা আমাদের ভাই ও বোন। আমরা ক্ষত কাটিয়ে উঠতে চাই। আমরা যুদ্ধ বন্ধ করে এই ক্ষত শুকাতে চাই।

তেলআবিবের সমাবেশে অনেকেই ‘ধন্যবাদ ট্রাম্প’ বলে প্রতিক্রিয়া জানান। তবে উইটকফ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করলে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ বিজোঁ শব্দ করে তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে যে সকল এলাকা ছেড়ে চলে গেছে, সেসব এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে নিজেদের যোদ্ধাদের মোতায়েন করেছে হামাস। গাজা শাসন নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই এই পদক্ষেপ ছিল প্রত্যাশিত। ইতিমধ্যে হামাস ও গাজার অন্যান্য গোষ্ঠীর মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

ঘরবাড়ি হারানো ফিলিস্তিনিরা গাজার উত্তরের দিকে ফেরা অব্যাহত রেখেছেন। অনেকে ফিরে এসে নিজেদের বসতভিটা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখছেন। আইনজীবী মোসা আলদৌস গাজা থেকে বলেন, এখানে আর কোনো ঘরবাড়ি নেই। সব শেষ। রাজা সালমি নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে বলেন, আমার সমস্ত স্মৃতি ধুলায় মিশে গেছে।

যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তি অনুযায়ী গাজায় আরও ত্রাণসামগ্রীবাহী ট্রাক পাঠানোর কথা থাকলেও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারেনি। সংস্থাটির লক্ষ্য গোটা শহরজুড়ে ১৪৫টি স্থানে নিয়মিত খাদ্য বিতরণ আবারও চালু করা। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার ৫০০ ট্রাক ত্রাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি। তবে ইসরায়েল এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, সেখানে যদি ক্ষুধার সমস্যা থেকে থাকে তবে তার দায়দায়িত্ব সাহায্য সংস্থা এবং হামাসের।