চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো পথশিশুদের মধ্যে টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা কার্যক্রম চালু হয়েছে। আজ রবিবার সকালে নগরীর প্রবর্তক মোড় এলাকায় সামাজিক সংগঠন “নগর ফুল” ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এ টিকাদান কর্মসূচি আয়োজন করে।
টিকা ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশুরা জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে টিকাদান কর্মসূচিকে সফল করতে হবে। নগরের প্রতিটি অভিভাবককে অনুরোধ করছি, নির্ধারিত তারিখে শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে আসুন। টাইফয়েড কেবল স্কুলপড়ুয়া নয়, স্কুলবহির্ভূত শিশুরও হতে পারে। তাই আমরা কমিউনিটি পর্যায়েও টিকাদান চালাব, যেন কোনো শিশু বাদ না যায়।
তিনি আরও বলেন, টাইফয়েড অত্যন্ত মারাত্মক রোগ। অনেক সময় সাধারণ জ্বর ভেবে আমরা বুঝতে পারি না এটি টাইফয়েড। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে অঙ্গহানী পর্যন্ত ঘটাতে পারে। প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। অনেক অভিভাবক অজান্তে বারবার অ্যান্টিবায়োটিক পরিবর্তন করেন, যার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়—এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই এই টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
টিকা কার্যক্রমে প্রায় ১৫০ জন পথশিশুকে নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একত্রিত করে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুষ্টিকর খাবার ও সচেতনতামূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়।
নগর ফুলের সঙ্গে জড়িত পথশিশুরা বলেন, আমাদের পরিবারের অনেকেই জানতো না এই টিকার কথা, কিন্তু নগর ফুলের ভাইয়ারা আমাদের এখানে নিয়ে এসেছেন টিকা দিতে। আমাদের মতো অনেকেই এই টিকা পাবে শুনতে পেরেছি তাই ভালো লাগছে।
নগর ফুলের সভাপতি মাহিন বলেন, পথশিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে, কারণ তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হয়। এই টিকা কার্যক্রমের মাধ্যমে অন্তত তাদের রোগপ্রবণতা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে। আমরা আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ জন পথশিশুকে টিকার আওতায় আনতে পেরেছি। সে জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানাই।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইমাম হোসেন (রানা) দেশ রূপান্তরকে বলেন, আজকে মেয়র মহোদয়ের ইচ্ছায় কিছু পথ শিশুকে নগর ফুলের মাধ্যমে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন প্রথম পর্যায়ে স্কুলে দেওয়া হবে এরপর আগামী মাসের প্রথম থেকে কমিউনিটি পর্যায়ে টিকা দেওয়া শুরু হলে আমরা আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের সবাইকে নিয়ে বস্তি, বস্তি ঘুরে শিশুদের টিকা নিশ্চিত করব। মেয়র মহোদয় এ ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, টাইফয়েড একটি পানিবাহিত রোগ, যা দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপদ পানি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, রাশেদা আক্তার, ডা. হোসনে আরা বেগম, ডা. গোলাম বাকী মাসুদ, চট্টগ্রাম রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সেক্রেটারি ডা. মনিরুল ইসলাম রুবেল, ইউনিসেফের প্রতিনিধি ডা. সরোয়ার আলম, ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী, ডা. ইফতার জাহান আঁখি, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ, আবু সালেহ এবং প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ ও নগর ফুলের কর্মকর্তারা।