জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাইদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মানবতাবিরোধী অপরাধের বহুল আলোচিত মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (১৩ অক্টোবর) দশম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে, গত ৬ অক্টোবর নবম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। সেদিন জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে পুলিশের দুই উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিক ও এসআই রায়হানুল রাজ দুলাল- জবানবন্দি দেন। পরে পলাতক ২৪ আসামির পক্ষে নিযুক্ত চার স্টেট ডিফেন্সসহ গ্রেপ্তারদের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিনটি ধার্য ছিল।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনার জন্য প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদার এবং প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ উপস্থিত থাকবেন।
মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয় গত ২৭ আগস্ট চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। এরপর গত ২৮ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেনের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই দিন সাংবাদিক একেএম মঈনুল হকও সাক্ষ্য দেন।
এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন সিয়াম আহসান আয়ান, যিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আবু সাইদকে হাসপাতালে নিতে প্রথম এগিয়ে আসেন এবং তার পুরো ঘটনার বর্ণনা আদালতে তুলে ধরেছেন। এছাড়া ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাজিবুল ইসলাম, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার লাইব্রেরিয়ান আনিসুর রহমান ও এসআই মো. তরিকুল ইসলামও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মামলাটিতে গত ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ (ফর্মাল চার্জ) গঠন করে ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দেন। গ্রেপ্তার ছয় আসামি হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।
উল্লেখ্য, এই মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউশন গত ২৮ জুলাই এ মামলার ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি শেষ করে। এই মামলায় মোট ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।