দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারগুলো সোমবার (১৩ অক্টোবর) রীতিমতো ধসে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনা পণ্যে তিন অঙ্কের শুল্ক আরোপের হুমকি এই ভাঙনকে তীব্র করেছে।
সোমবার সকালে হংকংয়ের হ্যাংসেং ইনডেক্স পতন করে ২.৪%, সাংহাই কম্পোজিট ১.৬%, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপিআই ১.৫% এবং তাইওয়ানের টাইএক্স হ্রাস করে। টোকিওর শেয়ারবাজার ছুটির কারণে বন্ধ থাকায় ক্ষতি কিছুটা কমেছে।
চীনের পক্ষ থেকে বিরল খনিজ ধাতু নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপের পর এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই বিরল ধাতু ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর এবং গাড়ি শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের শুরুতে বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতির পরেও সেপ্টেম্বরের শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে নতুন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ জারি করায় চীন এই পদক্ষেপ নেয়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্তরে শুক্রবার ঘোষণা করেন, ১ নভেম্বর থেকে চীনা পণ্যে অতিরিক্ত ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে মোট শুল্ক প্রায় ১৩০% পৌঁছে যাবে, যা বসন্তকালে বাণিজ্যযুদ্ধের সর্বোচ্চ ১৪৫%-এর কাছাকাছি।
গত শুক্রবার মার্কিন শেয়ারবাজারও ধাক্কা খেয়েছে। এসএন্ডপি ৫০০ এবং নাসড্যাক তাদের এপ্রিলের পরের সবচেয়ে খারাপ দিন দেখেছে, আর ডাও ইন্ডেক্সে মে মাসের পরের সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে।
তবে বিরল ধাতু সংক্রান্ত নিয়মকে চীন ‘বৈধ পদক্ষেপ’ হিসেবে রক্ষা করেছে বলে দাবী করেছে এবং উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। একই সঙ্গে চীন উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান কামনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চীন কে বিচক্ষণতার পথ বেছে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং আরও বলেছেন, যদি চীন আগ্রাসীভাবে সাড়া দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের ‘পাল্টা জবাব দেয়ার অনেক সুযোগ’ আছে।