লবন আমদানির প্রতিবাদে মহেশখালিতে মানববন্ধন

দেশে পর্যাপ্ত লবণ উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানির সরকারি অনুমতির প্রতিবাদে এবং দেশীয় লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল বেলা ১১টার দিকে মহেশখালী উপজেলা চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করে লবণ উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী সংগ্রাম পরিষদ, মহেশখালী। 

বক্তারা বলেন, দেশের চাহিদার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন করা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে লবণ আমদানি অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয় লবণ শিল্পের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেন, “আমরা কষ্ট করে মাঠে ঘাম ঝরিয়ে লবণ উৎপাদন করি, অথচ নীতিগত অদক্ষতা ও বিদেশি লবণ আমদানির কারণে আমরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

বক্তারা বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) এর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিসিকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের অব্যবস্থাপনা, দালালচক্রের প্রভাব ও নীতিহীনতার কারণে লবণচাষিরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির মুখে পড়ছে। তারা দাবি করেন, বিসিকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা সংস্কার না হলে দেশের লবণ শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

বক্তারা আরও বলেন, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকরিয়া ও উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো লবণচাষির জীবন-জীবিকা এই লবণ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। অথচ সরকারি নীতি নির্ধারকরা বিদেশি স্বার্থে দেশীয় উৎপাদকদের অবমূল্যায়ন করছেন, যা এক প্রকার অন্যায় ও শোষণ। 

তারা সরকারের প্রতি তিন দফা দাবি জানান- বিদেশ থেকে লবণ আমদানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, দেশীয় লবণের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে সরকারি তদারকি জোরদার করতে এবং লবণচাষিদের জন্য সহজ ঋণ, প্রণোদনা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, লবণ চাষ শুধু ব্যবসা নয়, এটি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনধারার অংশ। সরকার যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে লাখো পরিবার জীবিকার সংকটে পড়বে। 

শেষে তারা প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানান- দেশের স্বার্থে এবং উপকূলীয় জনগণের জীবিকার টিকে থাকার জন্য লবণ আমদানি বন্ধ করে স্থানীয় লবণ শিল্প রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব শহিদুল্লাহ চেয়ারম্যান, এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা আতাউর রহমান। মানববন্ধনে শতাধিক লবণচাষি, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।