‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অধিকার কারও নেই’

সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বেশকিছু অফিসার মানবতাবিরোধী মারাত্মক অপরাধ সংঘটনের দায়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে প্রচার মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণসমাজের নানা পর্যায় থেকে আমাদের গর্বিত জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং এর সদস্যদের সম্পর্কে বিভিন্ন মন্তব্য প্রচার করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র প্রতিরোধের রণাঙ্গনে জন্ম নেওয়া আমাদের বর্তমান অকুতোভয় জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার অধিকার কারও নেই। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর এবং সদস্য-সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমেদ খান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেন।

স্মরণযোগ্য, গতবছর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকার নিজের দখলদারী শাসন কায়েম রাখতে অতীতের সকল প্রথা ভেঙে জাতীয় সেনাবাহিনীর কতিপয় সদস্যকে দলীয় ক্যাডারের মত ব্যবহার করেছিল যা সশস্ত্র সেনাবাহিনী ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে বিনষ্ট করেছে। এই প্রক্রিয়া কেবলমাত্র সেনাবাহিনী নয়, নিরাপত্তার নিযুক্ত অন্যান্য পোষাকী বাহিনীর ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়েছিল। সেই বাহিনীগুলোর অনেকের বিরুদ্ধেই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যাদের ভেতর অনেকে পলাতক এবং কেউ কেউ গ্রেপ্তারও হয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, নেতিবাচক প্রচার প্রচারণা ও মিডিয়া মব তুমুল আকারে কেবল সেনা সদস্য ও সেনাবাহিনীর বিরূদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। এটা কোন স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী এই দেশ ও জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রধান ভরসাস্থল। এই বাহিনীকে সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার দায়িত্ব সরকারসহ সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকের। কাজেই উক্ত বাহিনীর কতিপয় বিপথগামী সদস্যের অপরাধমূলক কাজের দায় গোটা বাহিনীর উপর চাপানো যেতে পারে না। অভিযোগসমুহ বিচারাধীন। বিচারের আওতায় থাকা কোন বিষয়ে ব্যক্তিগত মতামত নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করবে।