আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানত বীমার আওতায় আসছে

ব্যাংকের পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদেরও বীমার আওতায় আনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অবসায়ন হলে গ্রাহকরা তার আমানতের বিপরীতে ২ লাখ টাকা পাবেন। এ অর্থ তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে দিতে হবে।

ব্যাংকের আমানতকারীরা এখনই এই সুবিধার আওতায় এলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীদের এজন্য অপেক্ষা করতে হবে। বিদ্যমান আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্তরা ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে এই আইনের আওতায় তহবিলের সদস্য হবেন এবং ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দেবেন। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীরা আড়াই বছর পর এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এই সুবিধা কার্যকর হলে আর্থিক খাতের প্রায় ৯৩ শতাংশ আমানতকারী বীমার আওতায় চলে আসবেন। প্রতি তিন বছরে একবার এ সীমা পর্যালোচনা করা হবে।

এমন বিধান রেখে সরকার ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

জানা যায়, পুরনো আইনে কোনো ব্যাংক বন্ধ হলে বীমার আওতায় গ্রাহকরা পেতেন সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা। এ অর্থ তাদের দেওয়ার বিধান ছিল ১৮০ দিনের মধ্যে। তবে ব্যাংক আমানত বীমা আইনে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে গ্রাহকরা কত ক্ষতিপূরণ পাবেন, তার কোনো উল্লেখ ছিল না। নতুন অধ্যাদেশে ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদেরও সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাংকের গ্রাহকের মতো একই পরিমাণ ক্ষতিপূরণ পাবেন।

সংশোধিত অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমানত সুরক্ষা তহবিল (ব্যাংক) ও আমানত সুরক্ষা তহবিল (আর্থিক প্রতিষ্ঠান) নামে দুটি পৃথক তহবিল থাকবে। তহবিল দুটি পরস্পর বিনিয়োগযোগ্য হবে না এবং পরস্পরের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করতে পারবে না। তহবিল পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড হবে। তবে তহবিলটি অন্যান্য তহবিল থেকে স্বতন্ত্র হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় ও সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। তহবিল পরিচালনায় ‘আমানত সুরক্ষা বিভাগ’ নামে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য বিভাগ থেকে পৃথক ও স্বতন্ত্র হবে।

অধ্যাদেশ জারির পর বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমানত সুরক্ষা তহবিলের সদস্য হিসেবে গণ্য হবে। কোনো নতুন ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হলে সেটিও আইন অনুযায়ী তহবিলের সদস্য হিসেবে গণ্য হবে। তবে লাইসেন্সপ্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে জমা দিতে হবে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম। বিদ্যমান আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্তরা ২০২৮ সালের ১ জুলাই থেকে এই আইনের আওতায় তহবিলের সদস্য হবে এবং ওই বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দেবে।