কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটে নতুন চমক খরগোশ বারবিকিউ

পর্যটকদের জন্য কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত বরাবরই একটি প্রিয় গন্তব্য। আর এই সৈকতের পাশে গড়ে উঠা জনপ্রিয় ‘ফিস ফ্রাই মার্কেট’ পরিচিত তার নানান স্বাদের সি-ফুডের জন্য। তবে এবার ভোজনরসিকদের জন্য রয়েছে এক নতুন চমক। সেটা হলো খরগোশের বারবিকিউ।

খাবারের তালিকায় এই ব্যতিক্রমী আইটেমটি এবারই প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয়,পর্যটক ও খাদ্যপ্রেমীদের জন্য এটি এক নতুন স্বাদ ও অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সী ফুড বারবিকিউ ব্যবসায়ীরা জানান, ভালো সারা পেলে সবাই শুরু করবে।

Messenger_creation_CEDDDA6F-832E-453A-B2C5-17DA9D9F6DDC

সম্প্রতি কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের ফ্রেন্ডস বারবিকিউ এন্ড ফিস ফ্রাই নামে এক দোকানে চালু হয়েছে এই নতুন পদ্ধতি। সুস্বাদু মসলা ও বিশেষ বারবিকিউ সসে ম্যারিনেট করা খরগোশের মাংস ধীরে ধীরে কয়লার আগুনে পুড়ে পরিবেশন করা হচ্ছে গরম পরোটা বা নানরুটির সঙ্গে।

কুয়াকাটায় এ মার্কেটে সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছের সাথে খাবারের তালিকায় এতদিন যুক্ত ছিল শামুক, স্কুইড, অক্টোপাস, লবস্টারসহ শতাধিক সামুদ্রিক মাছের আইটেম। তবে খরগোশ বারবিকিউ এই প্রথম।

খরগোশ বারবিকিউ খেতে আসা পর্যটক রাসেল হোসেন বলেন,  আমাদের এলাকায় খরগোশ খাওয়ার প্রচলন নাই বললেই চলে। যদিও ঢাকায় আমার এর আগে খরগোশ খাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই কুয়াকাটায় ফিস ফ্রাই মার্কেটে খরগোশ বারবিকিউ হচ্ছে এটা দেখে খেতে ইচ্ছে করল। ইসলামি শরিয়তেও বাঁধা নেই এই প্রানিটি খেতে। খরগোশের মাংস খুবই সুস্বাদু এবং মজাদার।

কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের সভাপতি মো. কাওছার মুসুল্লি বলেন, কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেট আমার হাতেই সৃষ্টি এবং এখানে সকল প্রকার সী ফুড পাওয়া যায়। তবে অনেক সময় পর্যটকদের চাহিদা অনুযায়ী সী ফুড এর বাইরেও হাঁস, মুরগী, গরু, খাসির মাংস বারবিকিউ করে দিয়েছি। কিন্তু খরগোশ বারবিকিউ কুয়াকাটায় এই প্রথম শুরু করা হয়েছে। তবে সারা পেলে আমরা সবাই নিয়মিতভাবে এটি চালু করবো।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অফ কুয়াকাটা (টোয়াক) প্রেসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, খরগোশের মাংস পুষ্টিকর ও স্বাদে অনন্য হলেও সাধারণত এটি খুব একটা দেখা যায় না কুয়াকাটার রেস্তোরাঁ বা স্ট্রিট ফুড বাজারে। তাই এই নতুন খাবার পর্যটকদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। কুয়াকাটায় ঘুরতে এসে সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে ব্যতিক্রমী স্বাদের খোঁজে যারা থাকেন তাদের জন্য ফিস ফ্রাই মার্কেটের খরগোশ বারবিকিউ হতে পারে একটি নতুন আকর্ষণ।

কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটের খরগোশ বারবিকিউ বিক্রেতা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আমি এবং আমার এক বন্ধু মিলে ভিন্ন কিছু করার পরিকল্পনা করছিলাম। হঠাৎ মনে হলো কুয়াকাটায় ফিস ফ্রাই মার্কেটে একটি দোকান করবো এবং সেখানে সামুদ্রিক মাছের পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে ভিন্ন একটি খাবার পরিবেশন করবো। সেই জায়গা থেকে অনেক ঘাটাঘাটি করে দেখলাম খরগোশ বারবিকিউ একটি ভিন্নধর্মী খাবার হতে পারে। তাই এটা শুরু করা এবং এখন পর্যন্ত বিগত এক সপ্তাহে ৬-৭ টি খরগোশ বারবিকিউ করে বিক্রি করেছি। সামনের দিকে আরো ভালো বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

এনিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী প্রাণী কল্যান সংগঠনের সদস্য বাইজিদ মুন্সি বলেন, কুয়াকাটা ফিস ফ্রাই মার্কেটে সামুদ্রিক মাছই পর্যটকদের মূল আকর্ষণ ছিল। কিন্তু এখন খরগোশ যোগ হয়েছে শুনলাম। আমরা সব সময় বিভিন্ন পশু পাখি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করে থাকি। সেই জায়গা থেকে খরগোশ খাওয়াকে সাপোর্ট করতে মনের দিক থেকে খারাপ লাগলেও এটা যেহেতু গৃহপালিত তাই এটা ক্রয়বিক্রয় করতে পারবে। 

মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুসারে, বন্যপ্রাণী ধরা, মারা, ক্রয়-বিক্রয়, পাচার, দখলে রাখা বা শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু কুয়াকাটায় যে খরগোশ গুলো বারবিকিউ করা হচ্ছে সেগুলো গৃহপালিত। তাই এগুলো চাইলে ক্রয়-বিক্রয় এবং খেতে পারবে।