গাজীপুরে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সোমবার বিকালে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার খিলক্ষেত থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার আসামিকে আদালতে পাঠানো হলে হত্যার দায় স্বীকার করে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেপ্তার মো. খোরশেদ আলম (৪৮) গুলশান থানার শাহাজাদপুর এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, নিহত রোমা আক্তার আসামি খোরশেদ আলমের ২য় স্ত্রী। ২০১৮ সালে রোমার সাথে খোরশেদ আলমের বিয়ে হয়। তাদের আয়াত (৬) নামের একটি মেয়ে আছে। রোমা একই গ্রামের ইউসুফ নামে এক ব্যক্তির সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল।
তিনি জানান, গত ২৯ আগস্ট রোমা তার স্বামী খোরশেদ আলমকে তালাকের এফিডেভিট দেখিয়ে জানায় যে, গত ৮ মে তাকে ডিভোর্স দিয়ে ইউসুফকে বিয়ে করেছে। স্বামী খোরশেদকে না জানিয়ে তার সাথে সংসার করে তার কাছ থেকে টাকা পয়সা নিয়ে গহনা ক্রয় করে তার দেড় মাস পর তাকে তালাকের বিষয় জানালে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং তারা আলাদা বসবাস শুরু করে। পরবর্তীতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোমাকে ফোন দিয়ে তার মেয়ে আয়াতের সাথে দেখা করতে চাইলে রোমা খোরশেদ আলমকে রাতে আসতে বলে।
তিনি আরও বলেন, খোরশেদ রাতে রোমার বাড়িতে আসলে রোমা দরজা না খোলায় খোরশেদ সারারাত রান্নাঘরে থাকে। পরদিন ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে রোমা তার মেয়েকে নিয়ে দোকান থেকে বাড়িতে আসলে খোরশেদ রোমার রুমে ঢুকলে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। এরপর খোরশেদ শোকেস থেকে ছুরি বের করে রোমাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক রোমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদি হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে এ মামলাটি পিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃত খোরশেদ আলমকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হলে সে রোমা আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।