মেট্রো চলাচলের সময় বাড়ছে রবিবার থেকে, বাড়বে ট্রিপও

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) মেট্রোরেলের সেবা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার থেকে দৈনিক চলাচলের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে ট্রেনের বিরতি কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত মাসেই মেট্রোরেলের চলাচলের সময় ও ট্রিপের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে মেট্রোরেল চালানো শুরু হয়। গত মঙ্গলবার এক বৈঠকে রবিবার থেকে বাড়তি এক ঘণ্টা মেট্রোরেল চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। তবে ট্রিপ সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে আরও কিছুদিন পরীক্ষা চালিয়ে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ বলেন, পর্যায়ক্রমে তারা সেবা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সে জন্যই পর্যাপ্ত পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। রবিবার থেকে দিনে এক ঘণ্টা বাড়তি সময় মেট্রোরেল চালানোর চেষ্টা চলছে। ট্রিপ বাড়াতে আরও কিছুদিন পরীক্ষা করতে হবে। আগামী মাসের মাঝামাঝিতে ট্রিপ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বর্তমানে উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন রাত ৯টায় ছাড়ে। নতুন সূচি অনুযায়ী, প্রথম ট্রেন ছাড়বে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন ছাড়বে রাত সাড়ে ৯টায়।

মতিঝিল থেকে বর্তমানে প্রথম ট্রেন সকাল সাড়ে ৭টায় এবং শেষ ট্রেন রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ছাড়ে। নতুন সূচিতে প্রথম ট্রেন সকাল ৭টায় এবং শেষ ট্রেন রাত ১০টা ১০ মিনিটে ছাড়বে। এতে মতিঝিল থেকে ছাড়া শেষ ট্রেনটি উত্তরা উত্তর স্টেশনে পৌঁছাবে রাত পৌনে ১১টার দিকে।

এ ছাড়া শুক্রবার বর্তমানে বেলা ৩টায় চলাচল শুরু হয়, যা নতুন সূচিতে আধঘণ্টা এগিয়ে বেলা আড়াইটায় শুরু হবে এবং রাতের সময়ও আধঘণ্টা বাড়বে।

বর্তমানে মেট্রোরেলে ব্যস্ত সময়ে ট্রেনের বিরতি ৬ মিনিট, কম ব্যস্ত সময়ে ৮ মিনিট এবং একেবারেই কম ব্যস্ত সময়ে ১০ মিনিট। আগামী মাসের মাঝামাঝিতে ট্রিপ সংখ্যা বাড়লে এই বিরতি যথাক্রমে ৪, ৬ ও ৮ মিনিটে নেমে আসবে। ফলে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমবে।

বর্তমানে দিনে ২৩৮ ট্রিপ হয়। বিরতি কমলে স্বাভাবিকভাবেই ট্রিপের সংখ্যা বাড়বে।

উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে চালানোর জন্য মোট ২৪ সেট ট্রেন রয়েছে। বর্তমানে ১২ সেট ট্রেন সার্বক্ষণিক চলাচল করে। সময় ও ট্রিপ বাড়লে ১৯ সেট ট্রেন নিয়মিত চলাচল করবে। দুটি ট্রেন ওয়ার্কশপে রাখা হয় এবং একটি ট্রেন লাইন পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে দৈনিক গড়ে সাড়ে চার লাখ যাত্রী মেট্রোরেলে চলাচল করেন। সময় ও ট্রিপ বাড়লে এই সংখ্যা বেড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা  ডিএমটিসিএলের।