নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় জামায়াতের কার্যালয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহ মিয়ার হাট বাজারে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্রশিবিরের তিন-চার নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে কবিরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে মসজিদে জামাতের সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী ১০ দিন একটানা নামাজ আদায় করবে তাদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়। গতকাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলায় পুরস্কার বিতরণের দিন নির্ধারণ করা হয়। সকালে আবদুল্লাহ মিয়ার হাট জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের শেষদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্বে ৮-১০ জন অনুষ্ঠানে হামলা চালায় ও শিবিরের কয়েকজনকে মারধর করে।
ছাত্রশিবিরের নোয়াখালী জেলা দক্ষিণ সেক্রেটারি আরাফাত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জেলার সাবেক ও বর্তমান অফিস সম্পাদক, সাহিত্য সম্পাদকসহ চারজন হামলার শিকার হন। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে জামায়াতের কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন বলেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি চতুর্থ শ্রেণিপড়–য়া তার ছেলেকে মাদ্রাসায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জামায়াত কার্যালয়ে দেখেন। তখন তিনি এত কমবয়সী শিক্ষার্থীকে কেন অনুষ্ঠানে আনা হয়েছে সেটি জানতে চান। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হামলা কিংবা ভাঙচুরের অভিযোগ ঠিক নয়।
কবিরহাট থানার ওসি মো. শাহিন মিয়া বলেন, জামায়াতের কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়ে আবদুল্লাহ মিয়ারহাটে জামায়াত ও বিএনপির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ থাকলেও এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।