লা লিগার বার্সেলোনা-জিরোনা ম্যাচের শুরুটা ছিল একেবারে অস্বাভাবিক। খেলা শুরু হতেই দুই দলের খেলোয়াড়রা ১৫ সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে ছিলেন। দর্শকরা অবাক হলেও এর পেছনে ছিল স্পষ্ট বার্তা— যুক্তরাষ্ট্রে লা লিগার একটি ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।
শনিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৩ মিনিটেই পেদ্রির গোলে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা, তবে ২০ মিনিটে অ্যাক্সেল উইটসেল সমতা ফেরান। শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে রোনাল্ড আরাউহোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় হানসি ফ্লিকের দল। কিন্তু ম্যাচ শেষে গোলের চেয়ে আলোচনায় ছিল এই ১৫ সেকেন্ডের নীরব প্রতিবাদ।
লা লিগা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ ডিসেম্বর বার্সেলোনা ও ভিয়ারিয়ালের ম্যাচটি যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। এটি হবে লা লিগার ইতিহাসে প্রথম অফিসিয়াল ম্যাচ যা স্পেনের বাইরে আয়োজিত হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মাঠে নীরবতা পালন করেন খেলোয়াড়রা।
স্প্যানিশ ফুটবল খেলোয়াড়দের সংগঠন (এএফই) জানিয়েছে,
“লা লিগার স্বচ্ছতা, সংলাপ ও সামঞ্জস্যের অভাবের প্রতিবাদেই খেলোয়াড়রা প্রতীকীভাবে এমন কর্মসূচি পালন করেছেন।”
টিভি সম্প্রচারকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবাদের মুহূর্তগুলো দেখাননি। শনিবারের সেভিয়া-মায়োর্কা ও বার্সেলোনা-জিরোনা ম্যাচের শুরুতে মাঠের চওড়া দৃশ্য না দেখিয়ে অন্য ভিজ্যুয়াল দেখানো হয়, যাতে দর্শকরা খেলোয়াড়দের স্থির থাকা না দেখতে পান। আগের দিন ওভিয়েদো-এসপানিওল ম্যাচেও একই ধরনের প্রতিবাদ হয়।
লা লিগা সভাপতি হাভিয়ার তেবাস অবশ্য এই উদ্যোগের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
“এটি লা লিগার আয় বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ, যা আমাদের টেলিভিশন অধিকারগুলোর মূল্য বাড়াতে সাহায্য করবে।”
অন্যদিকে বার্সেলোনা সভাপতি জোয়ান লাপোর্তা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে আমেরিকান বাজারে ক্লাবের উপস্থিতি আরও জোরদার করা যাবে।
তবে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের চোখে এই সিদ্ধান্তটি দেশের ফুটবল ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক— স্পেনের মাঠ থেকে ফুটবলকে হাজার মাইল দূরে সরিয়ে নেওয়ার এক বেদনাদায়ক পদক্ষেপ।