অনুদানের চেক পেল শাপলা চত্বরে নিহতদের পরিবার

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞে শহীদ ৫৮টি পরিবার এবং ২০২১ সালের মার্চ মাসের হত্যাকাণ্ডে নিহত ১৯টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পরিবার প্রতি ১০ লাখ টাকা করে মোট ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেক প্রদান করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ। গতকাল শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে নিহত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. আ ফ ম খালিদ হোসেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা সাজিদুর রহমান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। ঐতিহাসিক শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আজকের এই স্বীকৃতি তারই প্রমাণ। শাপলা চত্বরের ৫ মে এবং ২৪ আগস্টের ঘটনা একই সুতোয় গাঁথা।’ তিনি আরও বলেন, ‘শাপলা চত্বরেই খোদাই করে লেখা হবে শহীদদের নাম, যাতে কেউ ইতিহাস থেকে তাদের নাম মুছতে না পারে।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শহীদদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং শহীদ পরিবারের পাশে থাকা আমাদের দায়িত্ব। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি শাপলার ঘটনা এবং শহীদদের সম্মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘শাপলা চত্বর এবং মোদি বিরোধী আন্দোলনে শহীদদের আর্থিক সহায়তা প্রদান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ। তিনি এই উদ্যোগকে দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্বীকৃতি প্রদানের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।’