মিরপুরে অগ্নিকান্ড

বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবিতে মানববন্ধন

রাজধানীর মিরপুর শিয়ালবাড়িতে কেমিকেল ও গার্মেন্টস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ১৬ শ্রমিক নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জোট। গত শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশের শীর্ষ ১৪টি জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জোট শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) মানববন্ধনে এ দাবি জানায়।

নেতারা বক্তব্যে বলেন, মিরপুরের অগ্নিকা-ের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ঘনবসতিপূর্ণ ভবন ও কাঠামোগত অবস্থা কোনোভাবেই শিল্প কারখানার মানদ- পূরণ করে না। অধিকাংশ কারখানা অগ্নিনির্বাপণ সনদ ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।

তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, ঘটনা ঘটার পরেই কেন প্রকাশ পায় যে কারখানার কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না? ইপিজেডের মতো সুরক্ষিত এলাকায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে আটতলা ভবন নির্মিত হতে পারে?

নেতারা অভিযোগ করেন, অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কেউই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। একইভাবে ইপিজেড কর্তৃপক্ষও পরিদর্শন ও নজরদারিতে ব্যর্থ হয়েছে।

মানববন্ধনে শ্রম পরিদর্শন অধিদপ্তরের ক্ষমতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, সব শিল্প কারখানাকে একক পরিদর্শন কাঠামোর আওতায় আনা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া, নেতারা শ্রমআইন সংশোধন করে আইএলও কনভেনশন ১২১-এর আলোকে ক্ষতিপূরণের হার নির্ধারণ, ইপিজেডসহ সব শিল্প এলাকায় কলকারখানা পরিদর্শকদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের হাওলাদারের সভাপতিত্বে যুগ্ম সমন্বয়ক আহসান হাবিব বুলবুলের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি রাজেকুজ্জামান রতন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি মাহবুবুল আলম, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশের সভাপতি সাইফুজ্জামান বাদশা, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শামীম আরা, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ আকন্দ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আজিজুন নাহার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ মুক্ত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল্লাহ বাদল এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অর্থ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ।