অনশনরত শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ালেন হাসনাত-জারা

বাড়ি ভাতা বৃদ্ধি, মেডিকেল ভাতা ও কর্মচারীদের উৎসব ভাতার দাবিতে অনশনরত শিক্ষকদের খোঁজ নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে অনশনস্থলে গিয়ে তারা অসুস্থ শিক্ষকদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

শিক্ষক নেতারা জানান, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-বাড়ি ভাতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, ১ হাজার ৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা প্রদানের সরকারি প্রজ্ঞাপন দ্রুত জারি করা। গত শুক্রবার দুপুর সোয়া ২টা থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করেছেন।

এ সময় হাসনাত আব্দুল্লাহ ও তাসনিম জারা শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী তাদের সফরের ছবি ও বক্তব্য প্রকাশ করেন।

এদিকে আন্দোলনকারীরা আজ শহীদ মিনার থেকে শিক্ষা ভবন পর্যন্ত ‘ভূখা মিছিল’ (থালা-বাটি হাতে প্রতীকী অনশন মিছিল) বের করার ঘোষণা দিয়েছেন।

দেলাওয়ার আজিজী জানিয়েছেন, এ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবিগুলো সামনে তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, আমাদের সাত দিনের অধিক অনশন চলছে; এর মধ্যে প্রায় ১০০ জন শিক্ষক বর্তমানে আমরণ অনশনে আছেন, বাকিরা অবস্থান কর্মসূচি করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠ ছেড়ে দেব না। প্রয়োজনে রক্ত দেব তবু দাবি বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব।

ভূখা মিছিল সম্পর্কে সংগঠকরা জানান, এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ যেখানে অংশগ্রহণকারীরা খাদ্য বর্জন করে সড়কে ‘থালা-বাটি’ হাতে দাবির বাস্তবতা তুলে ধরেন। খাদ্যনির্ভরতা, ন্যায্য মজুরি ও অর্থনৈতিক নীতির অবহেলার বিরুদ্ধে এমন মিছিল সাধারণত সরকারের নজর আকর্ষণ ও সহমর্যাদা দাবির লক্ষ্যে করা হয়।

কর্মসূচিতে শিক্ষকরা ক্ষুধার্ত অবস্থায় এবং খালি থালা-বাটি হাতে শিক্ষা ভবনের দিকে রওনা দেবেন এবং সেখানে সমাবেশ করবে বলে জানান।