ডিয়েগো ম্যারাডোনা, লিওনেল মেসি, পল পগবা কিংবা আর্লিং হলান্ডের মতো ফুটবলারদের বিশ্ব ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে ফিফা অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ। এই প্রতিযোগিতার মঞ্চ পেরিয়েই তাঁরা হয়েছেন বিশ্বতারকা। সেই সিঁড়িতেই এবার উঠেছেন মরক্কোর ইয়াসির জাবিরি—যার নাম এখন যোগ হচ্ছে সেই উজ্জ্বল তালিকায়।
চিলির সান্তিয়াগোতে রবিবারের ফাইনালে সেই জাবিরির জোড়ায় আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে মরক্কো। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এটাই তাদের প্রথম অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ জয়।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ফ্রি–কিক থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জালের দেখা পান ফামালিকাওয়ের এই তরুণ ফরোয়ার্ড। এরপর ২৯ মিনিটে ওসমান মা’আম্মার ক্রস থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক ও ডিফেন্সের সামনে যেন অপ্রতিরোধ্য ছিলেন জাবিরি।
টুর্নামেন্টজুড়ে অপরাজিত থাকা আর্জেন্টিনা এদিনও বল দখলে আধিপত্য দেখালেও গোলের মুখ খোলার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। প্রথমার্ধে তাদের বল দখল ছিল ৭০ শতাংশের বেশি, তবু লক্ষ্য বরাবর একটি শটও নিতে পারেনি। অন্যদিকে মরক্কো শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ ও দ্রুত কাউন্টার আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে রাখে। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভে রক্ষা করেন দলকে।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা মরিয়া হয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করলেও মরক্কোর রক্ষণদেয়াল ভাঙতে পারেনি। মাহের কাররিজোর একটি বিপজ্জনক ফ্রি–কিক সামান্য বাইরে চলে যায়, আর সম্ভাব্য হ্যান্ডবলের ঘটনায় ভিএআর চেকের পর কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। শেষ দিকে মরক্কোর পরিবর্তন কৌশল ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
এই জয়ে মরক্কো শুধু নিজেদের ফুটবল ইতিহাসেই নয়, আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় লিখেছে। ২০০৯ সালে ঘানার পর এই প্রথম কোনো আফ্রিকান দল জিতল অনূর্ধ্ব–২০ বিশ্বকাপ। কোচ মোহামেদ ওয়াহবির পরিকল্পিত রক্ষণাত্মক কৌশল ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণের স্ট্র্যাটেজি ম্যাচের ফল নির্ধারণে ছিল মুখ্য।
এই অভিযানে মরক্কো গ্রুপপর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে শীর্ষে থেকে নকআউটে ওঠে। শেষ ষোলোতে দক্ষিণ কোরিয়া, কোয়ার্টার ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্র এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে যায় তারা।
আর্জেন্টিনা তাদের সপ্তম শিরোপার আশায় মাঠে নামলেও ইয়াসির জাবিরির ঐতিহাসিক রাত সেই স্বপ্ন চূর্ণ করেছে। মাত্র ১৯ বছরের এই ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্সে ফুটবল বিশ্ব এখন নতুন এক তারকার উত্থান প্রত্যক্ষ করছে।