চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ (সিজিভিসি), যা বর্তমানে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) নামে পরিচিত, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কার্যকর ও টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এ পথচলার সূচনা হয় ১৯৯৯ সালে, যখন যুক্তরাজ্যের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আর ভি সি)-এর সঙ্গে একটি শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে ওঠে, যা ব্রিটিশ কাউন্সিল/দ্য ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ডি এফ আই ডি) এর যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়।
এই সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা কিন্তু সহজ ছিল না। ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় প্যান-কমনওয়েলথ সম্মেলন তৎকালীন কলেজ অধ্যক্ষ ও পরবর্তীতে সিভাসুর প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. নীতিশ চন্দ্র দেবনাথের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের রয়েল ভেটেরিনারি কলেজ (আর ভি সি) এর ড. আলাসডেয়ার আলেক্স কুকের পরিচয়ের মাধ্যমে এর সূচনা ঘটে। পরবর্তী আলোচনার ভিত্তিতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন, প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১৯৯৮-৯৯ সালে দুই বছর মেয়াদি একটি যৌথ প্রকল্প শুরু হয়।
এই প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে ছিল— ১. ভেটেরিনারি ডিগ্রির সিলেবাস ও কারিকুলাম আধুনিকায়ন ও প্রাসঙ্গিককরণ, ২. বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টার্নশিপ কারিকুলাম প্রণয়ন, ৩. মাদ্রাজ ভেটেরিনারি কলেজ (তামিলনাড়ু, ভারত) এ ছাত্রছাত্রীদের এক্সটার্নশিপ চালু।
এই সফল উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে শিক্ষক বিনিময়, উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের জন্য আরভিসিতে শিক্ষক পাঠানো, এবং অন্যান্য সহযোগিতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বিষয়ক একটি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালিত হয়, যা সিভাসুর গবেষণা সক্ষমতা ও উচ্চশিক্ষার মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা আজও টিকে আছে পারস্পরিক বিশ্বাস, উচ্চমানের গবেষণা ও উভয় প্রতিষ্ঠানের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে—যা এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক একাডেমিক অংশীদারিত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
ড. আলাসডেয়ার কুক যুক্তরাজ্যে প্রশিক্ষিত একজন ভেটেরিনারিয়ান, যিনি পেশাগত জীবন শুরু করেন ফার্ম প্রাণী চিকিৎসা দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি ইয়েমেন, জাম্বিয়া ও মেক্সিকোতে “ওয়ান হেলথ (এক স্বাস্থ্য)” ভিত্তিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের আর ভি সি এর অধ্যাপক ছিলেন এবং সিভাসুর দীর্ঘমেয়াদি সহযোগী ও অংশীদার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এছাড়া তিনি এনিম্যাল এন্ড প্ল্যান্ট হেলথ এজেন্সি (এ পি এইস এ) তে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সারে (যুক্তরাজ্য) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও ভি এইস আই ভি ই উদ্ভাবন কেন্দ্রের নির্মাতা। বর্তমানে তিনি একজন স্বাধীন পরামর্শদাতা এবং যুক্তরাজ্যের খাদ্য নিরাপত্তা কমিটির সদস্য। জোয়েটিস পিএলসি তার এই সফরে অংশগ্রহণে সহায়তা করেছে।
ড. আলাসডেয়ার আলেক্স কুক ইতিপূর্বে তিনবার সিজিভিসি /সিভাসু সফর করেছেন-১. ১৯৯৯ সালে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে, ২. ২০০৩ সালে প্রথম ভেটেরিনারি স্নাতক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে, ৩. ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে ।
সিভাসুর এই প্রিয় ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আলাসডেয়ার আলেক্স কুক পুনরায় বাংলাদেশে আসছেন সিভাসুর ১৭তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে (২৬-২৮ অক্টোবর ২০২৫) অংশগ্রহণ করতে। ড. কুক সম্মেলনের বিষয় "স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি উন্নয়নের জন্য স্থল ও জলের বাস্তুতন্ত্রের আন্তঃবিষয়ক সংহতি" শীর্ষক আলোচনায় উপস্থাপনা প্রদান করবেন।
এই সম্মেলনে দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০০ জন অংশগ্রহণকারী যুক্ত হবেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্য, ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবীরা। আমরা সিভাসুর তরফ থেকে অধ্যাপক ড. কুককে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।
প্রফেসর মো. আহসানুল হক (রোকন)
সমন্বয়কারী, ১৭তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ২০২৫।
পরিচালক, ওয়ান হেলথ ইন্সটিটিউট, সিভাসু
মোবাইলঃ +৮৮০১৭৫৭৭৯৬৮৬৬