এশিয়ান কাপের প্রস্তুতিতে কঠিন প্রতিপক্ষের সাথে খেলতে চান আফঈদারা

থাইল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২৪ ও ২৭ অক্টোবর দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের অধীনে ঢাকায় থাইল্যান্ড সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে রবিবার। দুদিন প্রস্তুতি শেষে আজ ঢাকা ছাড়বে দল। থাইল্যান্ড সফরের জন্য সোমবার ২৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন। যে দলটি তিনি গড়েছেন অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যে মিশেলে। অনূর্ধ্ব-২০ দলের এক ঝাঁক ফুটবলারকে সুযোগ দিয়েছেন কোচ। মূলত র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তার দল কেমন করে, সেটাই দেখতে চান বাটলার। আর আগামী বছর এপ্রিলে এশিয়ান কাপের আগে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সঙ্গে বেশি বেশি ম্যাচ খেলার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। সমশক্তির দলগুলোর সঙ্গে না খেলে প্রয়োজনে অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য দলগুলোর সঙ্গে খেলে এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিতে চান তিনি।

বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে থাইল্যান্ডের অবস্থান ৫৩তম। আর বাংলাদেশ আছে ১০৪তম স্থানে। ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ দুটি বাটলারের কাছে শীষ্যদের বড় প্রস্তুতির মঞ্চ। থাইল্যান্ড অবশ্য এবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যেতে পারেনি। তাদের বিদায় করে মর্যাদার আসরে নাম লেখায় ভারত। তারপরও বাটলারের বিশ্বাস প্রস্তুতির অংশ হিসেবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি বড় সহায়ক হবে। 
এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে বাংলাদেশ প্রস্তুতি শুরু করেছে মাস খানেক আগে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড-এর উন্নত অবকাঠামোয় তিন সপ্তাহের কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে ফুটবলাররা। যে ক্যাম্পে অবশ্য ছিলেন না ভুটানে লিগে খেলা ৯ সিনিয়র ফুটবলার। ভুটান লিগে খেলা ৯ ফুটবলারকে নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সেশন পরিচালনা করেন বাটলার। তার আগে অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে দল এবং প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন কোচ। চট্টগ্রামে তিন সপ্তাহের ক্যাম্প করার সুফলটাই থাইল্যান্ডে দেখতে মুখিয়ে আছেন কোচ, 'আমরা প্রায় ২১ দিনের ট্রেনিং ক্যাম্প শেষ করেছি কোরিয়ান ইপিজেড-এ। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা কারণ তারা আমাদের আধুনিক সুযোগ, সুবিধা সম্পন্ন অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।এই ক্যাম্প দলের মনোবল বাড়াতে বড় সহায়তা দিয়েছে।'

তিনি যোগ করেন, 'আমরা এখন একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। দুইটি ম্যাচ রয়েছে থাইল্যান্ডে। প্রতিপক্ষ হিসেবে থাইল্যান্ড খুব ভালো দল। প্রযুক্তিগতভাবে বেশ ভালো। আমি বিশ্বাস করি এটি একটি ভালো পরীক্ষা হবে এবং এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিজেদের কৌশল পরীক্ষা করার দারুণ সুযোগ এটা।' স্কোয়াডে সিনিয়রদের পাশাপাশি জুনিয়রদের সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে বাটলার বলেন, 'এই স্কোয়াড নিয়ে আমরা খুশি। দলে প্রায় ৪৮ % অনূর্ধ্ব‑২০ এবং ৫২ % সিনিয়র ফুটবলার। জুনিয়রদের অভিজ্ঞতা অর্জন, শেখা ও উন্নতি করার সুযোগ দিতে চান তরুণদের। থাইল্যান্ড প্রযুক্তিগতভাবে ও কৌশলগতভাবে অনেক এগিয়ে থাকা একটি দল। এরকম দলের বিপক্ষে খেললে নিজের ভুলগুলো উঠে আসবে। তখন সেগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে। 

বাংলাদেশ দল
রুপনা চাকমা, মিলি আক্তার, স্বর্ণা রাণী, নবীরন খাতুন, আফঈদা খন্দকার (অধিনায়ক), কোহাতি কিসকু, রুমা আক্তার, শামসুন্নাহার সিনিয়র, হালিমা আক্তার, জয়নব বিবি, শিউলি আজিম, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী, উমেহলা মারমা, শাহেদা আক্তার, সুলতানা, সাগরিকা, তহুরা খাতুন, শামসুন্নাহার জুনিয়র, ঋতুপর্ণা চাকমা ও সিনহা জাহান।

 

'আমি একটা কথাই বলতে চাই, র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে তাকা দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন। হয়তো আপনি ম্যাচ হেরে ফিরবেন। আমি চাই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখতে। খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক স্তরে কি করতে পারে — সেটা দেখাই সবচেয়ে বড় বিষয়।'

ভুটান থেকে ফেরাদের মাত্র দুদিন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন বাটলার। এতে খুব বেশি সমস্যা দেখছেন না কোচ, 'এই ক্যাম্পে আমরা ৯ জন খেলোয়াড়কে বেশিসময় পাইনি। তবে এরা আমাদের কৌশল ও খেলার ধরণ সম্পর্কে ভালোভাবেই জানে। তাই আমি মনে করি না খুব বেশি সমস্যা হবে। এদের কিছু সময় প্রয়োজন দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে।'

থাইল্যান্ড থেকে ফেরার পর এশিয়ান কাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রস্তুতি পরিকল্পনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বাফুফে চেয়েছিল মালয়েশিয়ায় কন্ডিশনিং ক্যাম্প এবং স্থানীয় কিছু ক্লাব দলের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের। বাটলার এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি চান, প্রস্তুতি ম্যাচগুলো হোক জাতীয় দলগুলোর সঙ্গে। নিদেনপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য দলগুলোর সঙ্গে খেললেও দলের লাভ দেখছেন বাটলার, 'আমি মনে করি, যদি আপনি অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যদলগুলোর সঙ্গে খেলার সুযোগ মেলে, তবে সেটা নেওয়া উচিত। কারণ অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যদলগুলো অনেক শক্তিশালী। কিন্তু মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর আর হংকংয়ের ক্লাব দলগুলো তেমন শক্তিশালী নয়। সেটা পুরোপুরি সময়ের অপচয় হবে। আমাদের দরকার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা। সেটা হয়তো হতে পারে আজারবাইজান অথবা যেকোনো উচ্চ র‍্যাঙ্কিংধারী দেশ— যেমন ইরান। আমাদের র‌্যাংকিংয়ের উপরের সারির দলগুলোর সঙ্গে খেলতে হবে। আমার মতে, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের মতো দলগুলোর সঙ্গে খেলা আসল উদ্দেশ্যকে ধ্বংস করবে।'