চিলিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মরক্কো। এরপর দর্শকদের নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ও সাবেক বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার অস্কার রুগেরি। গতকাল অনুষ্ঠিত ফাইনালে চিলির দর্শকরা মরক্কোকে সমর্থন দিয়েছে। এতেই চটেছেন বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই ডিফেন্ডার।
টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘এফ নাইন্টি’-তে এক আলোচনায় রুগেরি চিলির দর্শকদের আচরণকে ‘অমার্জনীয়’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার যুব দলকে অভিনন্দন, তারা দারুণ খেলেছে। কিন্তু চিলিয়ানরা প্রতিটি ম্যাচে আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছিল—খুবই বাজেভাবে। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষেও কখনও আমাদের সমর্থন করেনি। তারপরও তারা বলে আমরা ভাই—না, আমরা ভাই নই।’
রুগেরির এই মন্তব্য ঘিরে লাতিন আমেরিকার ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মরক্কোর প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াহাবি ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে চিলির দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপকে আমি তিন শব্দে সংজ্ঞায়িত করব—ঈশ্বর, জনগণ ও রাজা। চিলির মানুষ শুরু থেকে আমাদের পাশে ছিল। রাঙ্কাগুয়ায় আমরা নিজেদের ঘরের মাঠে খেলার অনুভূতি পেয়েছি।’
ফাইনালে আর্জেন্টিনার কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তে দলের পরাজয়ের কারণ হিসেবে আত্মবিশ্বাসের অভাব ও প্রাথমিক ভুলকে দায়ী করেছেন। তার ভাষায়, ‘শুরুতেই একটি ভুলে গোল খাওয়ার পর ম্যাচে ফেরা কঠিন হয়ে যায়। মরক্কো এগিয়ে গেলে খুব রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে, তাই আমরা চাপ তৈরি করলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।’
চিলির মাঠে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে স্থানীয় দর্শকরা পুরো সময়জুড়ে মরক্কোর পাশে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের উচ্ছ্বাস স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। ফলে ম্যাচের আবহও কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক থেকে রাজনৈতিক রূপ নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলে দীর্ঘদিনের আর্জেন্টিনা–চিলি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তাদের এই মনোভাবের কারণ হতে পারে।