জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল, সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে তিনটি দল— আওয়ামী লীগ ২১ বছর, বিএনপি ১৫ বছর এবং জাতীয় পার্টি ৯ বছর ক্ষমতায় ছিল। তারা দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেনি। নিজেদের পরিবর্তন করেছে। ক্ষমতায় যায়নি শুধু জামায়াতে ইসলামী। এবার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়ে পরীক্ষা করুন। এ কথা বলতে পারি, জামায়াত ঘুষ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস করে না। দেশে দুর্নীতি ও লুটপাট থাকবে না। দেশের মানুষকে ভালো রাখবে, ইনশাআল্লাহ।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে খুলনা-৫ আসনের শাহপুর আঞ্চলিক অফিসে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া, রঘুনাথপুর ও রুদাঘরা ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আজকাল দেখা যাচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় জামায়াত-শিবিরকে জড়িয়ে বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ জ্ঞান অর্জন করে বিরোধীদের অপপ্রচারের সঠিক ও তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জামায়াতের কল্যাণমুখী দেশগঠনের ইতিবাচক রাজনীতি জনগণের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি ময়দানেও ব্যালট বিপ্লবে ভূমিকা রাখবে।
একটি পক্ষ জামায়াতের গণজোয়ার রুখে দিতে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত ঘের দখল করে না, জমি দখল করে না, বালু উত্তোলন করে না। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে বেকার থাকবে না। কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব দূর করা হবে। সৃষ্টিকর্তার বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালিত হলে হিন্দু-মুসলিম সবাই ভালো থাকবেন।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশ একটি ইতিবাচক অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছি। একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাচনের মাধ্যমে নতুনভাবে নির্বাচিত কোনো শাসক যাতে কর্তৃত্ববাদী, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী না হয়ে ওঠে— সে লক্ষ্যে জনপ্রশাসন, মাঠপর্যায়ের প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, ইলেক্টোরাল সিস্টেম, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের ছয়টি অঙ্গকে পুনর্গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার ছয়টি কমিশন করে বহু সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিল। এর মধ্যে আমরা সব রাজনৈতিক দল একত্রে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মোট ৮৪টি বিষয়ে একমত হয়েছি। এটি জুলাই চার্টার হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সরকার ও ঐকমত্য কমিশন প্রধান হিসেবে আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি জানিয়েছি— আগামী নভেম্বরে গণভোটের মাধ্যমে এই জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ঠিক করতে হবে।