বিশ্ব ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার ও ব্রায়ান লারাকে দেখা গেল এক মঞ্চে। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির এক বিশেষ আয়োজনে মুখোমুখি হয়ে তারা স্মৃতিচারণ করলেন নিজেদের ফেলে আসা সময়ের। আলোচনায় উঠে আসে তাদের খেলোয়াড়ি জীবনের নানা স্মৃতি— প্রথম দেখা, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং তরুণদের জন্য পরামর্শ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং গ্রেট লারা বলেন, ‘শচীনের শৃঙ্খলা আর ধারাবাহিকতা আমাদের প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণা। মাঠে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম, কিন্তু মাঠের বাইরে আমাদের মাঝে সত্যিকারের বন্ধুত্ব ছিল। শচীন, মুরালিধরন এবং প্রয়াত ওয়ার্নের যুগে বেড়ে ওঠা ক্রিকেটার আমরা। সম্ভবত ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা দুই দশক ছিল সেটি। ম্যাকগ্রা, অ্যামব্রোস, ওয়াসিম আকরাম ছাড়া সেই যুগ সম্পূর্ণ হয় না।’
এ সময় টেন্ডুলকার মজা করে বলেন, ‘তোমার নিজের নামটা কিন্তু ভুলে যেও না!’ তিনি আরও বলেন, ‘লারার ব্যাটিং ছিল শিল্পের মতো। ওর সঙ্গে খেলতে সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু একইসঙ্গে আনন্দেরও। আজকের প্রজন্ম সব কিছু এই মুহূর্তে পেতে চায়। কিন্তু আমি বলব— তুমি যদি এখনই কোনো কিছু করে ফেলতে চাও, সেটা সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। সুতরাং, ‘এখনই’ বলে কিছু নেই।’
ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক শচীন টেন্ডুলকার শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মুরালিধরনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘মুরলি তার বিখ্যাত দুসরা ডেলিভারি নিখুঁত করতে ১৮ মাস অনুশীলন করেছিলেন, কিন্তু যতক্ষণ না পুরোপুরি পারদর্শী হয়েছেন, ততক্ষণ তিনি সেটা ম্যাচে ব্যবহার করেননি। কারণ, তিনি জানতেন— নেটে অতিরিক্ত চেষ্টা করতে গিয়ে যদি নিজের মূল অস্ত্র, অর্থাৎ স্বাভাবিক অফ স্পিনটি হারিয়ে ফেলেন, তাহলে বড় ক্ষতি হবে।’
আধুনিক ক্রিকেট নিয়ে লারা বলেন, আজকের ব্যাটসম্যানরা অনেক সময় বোলারের হাত থেকে কী বল আসছে, সেটা দেখার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছেন। তার ভাষায়, ‘টি-টেন এবং টি-টোয়েন্টিতে একটা জিনিসের অভাব থাকে। আমার মনে হয় এখন অনেক ব্যাটসম্যানই বোলারের হাত থেকে কী ডেলিভারি আসছে, সেটা দেখার চেষ্টা করেন না। কারণ, এখন তাদের ওপর রান করার জন্য চাপ থাকে। তাই সবাই শুধু রান তুলতে চায়, কিন্তু বল বোঝার সময়টা নিচ্ছে না।’