ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রোপা আমনের ক্ষেতে দেখা দিয়েছে মাজরা পোকা ও ইঁদুরের আক্রমণ। এতে শুকিয়ে যাচ্ছে ধান গাছ। কীটনাশক ব্যবহার করেও সুফল পাচ্ছেন না কৃষক। পাশাপাশি রয়েছে ইঁদুরের উৎপাত। ফলে আমন উৎপাদনে লোকসানের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, পাতায় মাজরা পোকার আক্রমণের ফলে জ্বলে যাচ্ছে ধানগাছ। মাজরা পোকার পাশাপাশি জমিতে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ধান বের হওয়ার সময় ইঁদুর ধান গাছের গোড়া কেটে ফেলছে। কীটনাশক ব্যবহার করেও মাজরা পোকা ও ইঁদুর দমন করতে পারছেন না। এতে করে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। আশঙ্কা করছেন ধানের উৎপাদন কম হওয়ার। এ অবস্থায় মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের কোনো পরামর্শ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকের। কিন্তু পোকা নিয়ন্ত্রণে কৃষি অফিস কাজ করছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ১৯ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। আর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ৪৪১.৬ মেট্রিক টন।
উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের হরিয়াখালী গ্রামের কৃষক আমীর হোসেন ১২০ শতাংশ, দুলাল মিয়া ১০০ শতাংশ, ইমান আলী ৮০ শতাংশ, নূর ইসলাম ৭০ শতাংশ জমিতে রোপণ আমন ধান চাষ করেছেন। তারা জানান, পোকা ও ইঁদুরের আক্রমণে আমন ধানে লোকসান গুণতে হবে। বেশ কয়েকবার কীটনাশক ওষুধ দিয়েও পোকা ও ইঁদুরের আক্রমণ থামানো যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় তাদের খোঁজখবরও নেয়নি কৃষি বিভাগের লোকজন।
উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের সাধরগোলা গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, আমার আমন ধানের অর্ধেক জমি পোকায় নষ্ট করে ফেলেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে ধানের শিষ আসার সময় খেতে মাজরা পোকার আক্রমণ চোখে পড়েছে। এরপর থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ স্প্রে করেও কোনো লাভ হচ্ছে না। জানি না এ বছর কপালে কী আছে।
এছাড়াও উপজেলার জাটিয়া এবং রাজিবপুর ইউনিয়নের জনি মিয়া ও রফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের আমন ধানের জমিতে পোকা ও ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। স্প্রে এবং ইঁদুর নিধন ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এখন কী ওষুধ ব্যবহার করব, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রানী চৌহান বলেন, এ বছর মাজরা পোকায় তেমন আক্রান্ত হয় নাই। তবে যেসব জায়গা আক্রান্ত হয়েছে, সেখানে আমারা ফেরোমন ফাঁদ ও পোকা নিয়ন্ত্রণের ওষুধ দেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমনের ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে। ইঁদুর নিধনে বিষটোপসহ বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কাজ করছে। আশা করি খুব দ্রুত এর সমাধান হবে এবং কৃষকরা তাদের ধান ঘরে তুলতে পারবে।