হাসিনা মামলার রায়ের দিন নির্ধারণ হতে পারে কাল

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে রায়ের দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার নির্ধারিত হতে পারে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল চত্বরে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “আজ পলাতক দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা এবং রাজসাক্ষী আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে ডিফেন্স আইনজীবী যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকেও আংশিক জবাব দেওয়া হয়েছে। 

আগামীকাল চিফ প্রসিকিউটর ও অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের সমাপনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হবে।”

বিকেল সোয়া তিনটার দিকে আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিন দিন ধরে চলা যুক্তিতর্কে তিনি তার মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে খালাসের আবেদন জানান। 

এ সময় সাক্ষীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান ও এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যকে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি।

পরে রাজসাক্ষী মামুনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।

প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও সুলতান মাহমুদসহ অন্যরা।

এর আগে, গত ১৬ অক্টোবর পাঁচ দিন ধরে যুক্তি উপস্থাপন শেষে প্রসিকিউশন হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ায় মামুনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের মোট পৃষ্ঠাসংখ্যা আট হাজার সাতশ সাতচল্লিশ, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার আঠারো পৃষ্ঠা, দালিলিক প্রমাণ চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার সাতশ চব্বিশ পৃষ্ঠা। মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে একাশি জনকে।

গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে তিনজনের বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়।