রাশিয়াকে নতুনভাবে চেপে ধরল ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল কোম্পানি রসনেফট ও লুকোইল-এর বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের ইতি টানতে মস্কোর ওপর চাপ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনে রুশ হামলায় শিশু সহ অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়। 

এ ঘোষণার একদিন আগে রাশিয়া যুদ্ধরেখায় হামলা বন্ধে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প বুদাপেস্টে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন ।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নিষেধাজ্ঞা স্থবির হয়ে থাকা শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি আনবে বলে আশা করছেন তিনি। বুধবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘প্রতি বারই ভ্লাদিমিরের সঙ্গে আলোচনা আগালেও কোনো ফল আসে না।’

ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে রাজি হলে এই নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করা হতে পারে। 

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যও রসনেফট ও লুকোইল-এর ওপর একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী রেচেল রিভস বলেন, ‘রুশ তেলের কোনো স্থান বিশ্ববাজারে নেই।’

অন্যদিকে লন্ডনে রুশ দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, এসব পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত করবে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

রসনেফট ও লুকোইল প্রতিদিন তিন মিলিয়নের বেশি ব্যারেল তেল রপ্তানি করে। রসনেফট একাই রাশিয়ার মোট তেল উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকের জন্য দায়ী— যা বিশ্ব উৎপাদনের ছয় শতাংশ।

নতুন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার ও ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের উনিশতম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে রাশিয়ার তরল গ্যাস আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।