মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন সন্তানের পিতা মো. ইমরান হোসেন (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের ইউনুস মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম তার মায়ের মোবাইল ফোন থেকে এক বান্ধবীকে কল দিতে গিয়ে ভুলবশত আসামি ইমরানের নম্বরে ফোন চলে যায়। এরপর থেকেই ইমরান কিশোরীর মায়ের ফোনে যোগাযোগ করে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিশোরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
গত ৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ইমরান শিবালয়ের নারায়ণ তেওতা এলাকায় কিশোরীর নানা বাড়িতে গিয়ে তাকে কৌশলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এরপর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর ২১ অক্টোবর বেলা আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে আসামি পুনরায় ভিকটিমের সঙ্গে দেখা করতে বাদীর দুবুলিয়া ডাঙ্গা গ্রামের বাড়িতে আসে এবং তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে।
এ সময় ভিকটিম তাকে বিয়ের কথা বললে আসামি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকে। পরে ভিকটিম ঘটনাটি তার মাকে জানায়।
ভিকটিমের মা স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসামিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে। খবর পেয়ে বাদী ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, তিনি বিবাহিত এবং তার স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান রয়েছে।
এরপর বাদী আসামির কাছ থেকে তার মায়ের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার মাধ্যমে ঘটনাটি জানায় এবং থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো বলেন, অভিযুক্ত ইমরানকে আটক করে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় একাধিকবার ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ভুক্তভোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।