গাজায় বেসামরিক প্রধান নিয়োগ দিলো যুক্তরাষ্ট্র!

যুক্তরাষ্ট্র গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও টেকসই করতে ‘বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র’ গঠন করেছে। সংস্থাটির বেসামরিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত স্টিভেন ফ্যাগিন। ২০২২ সালে তাকে ইয়েমেনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এ পদেই ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফ্যাগিনের নিয়োগ নিশ্চিত করেছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবিত ২০ পয়েন্ট যুদ্ধ পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে এই সংস্থা গঠন করা হয়েছে। সংস্থাটির বেসামরিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে ইয়েমেনের বর্তমান মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভেন ফ্যাগিনকে।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ ইসরায়েলের কিরইয়াত গাত শহরে এই সমন্বয় কেন্দ্রের সদর দপ্তর উদ্বোধন করা হয়। তেল আবিব থেকে এই শহর ৫৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যে সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন।

সংস্থাটির সামরিক বিভাগের প্রধান করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্যাট্রিক ফ্রাংককে। সংস্থাটিতে সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের দুই শতাধিক সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০ পয়েন্টের একটি পরিকল্পনা পেশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েল ও হামাস উভয়ে পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার পর ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ে গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মি ও ইসরায়েলের কারাগরে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি দেওয়া হবে, গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বাধামুক্ত করা হবে এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে।

তবে বিরতি শুরুর ১৫ দিন পরেও এর বিভিন্ন শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থা গঠন করেছে।