দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট চায় খেলাফত মজলিস

'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ ঘোষণা করলেও এখনও তার আইনি ভিত্তি তৈরি ও বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে পারেনি। এই জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার অন্যতম দাবি। জনগণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছিল ফ্যাসিবাদীদের বিচার, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য। তাই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না থাকলে নির্বাচন ও সংস্কারের কোনও মূল্য নেই।'

আজ শনিবার খেলাফত মজলিসের ত্রৈমাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ একথা বলেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও গণভোটের মাধ্যমে তার শক্তিশালী আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমরা নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সংসদের উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, ফ্যাসিবাদীদের বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান, ফ্যাসিবাদী দল ও দোসরদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও নাজুক। এখনও গুম, হত্যা, নির্যাতন বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক হিন্দুত্ববাদী উগ্র সংগঠনের অপতৎপরতা বৃদ্ধির কারণে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনকে এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সরকারকে অবশ্যই অন্যায়ের বিপক্ষে ও ন্যায়ের পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে হবে।

খেলাফত মজলিসের ৬ দাবি- জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও আদেশের ওপর আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট আয়োজন করা, আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা,  অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল জুলুম নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা, ফ্যাসিবাদী দল ও দোসরদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে ব্যবস্থা গ্রহণ।

পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত খেলাফত মজলিসের ত্রৈমাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আমিরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, মাওলানা সামছুজ্জামান চৌধুরী, মাস্টার আবদুল মজিদ, মাওলানা শেখ সালাহউদ্দিন, বায়তুলমাল সম্পাদক আলহাজ্ব আবু সালেহীন, সমাজকল্যাণ ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক মাওলানা আবু সালমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক আবদুল করিম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসেন মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফেজ মাওলানা শায়খুল ইসলাম প্রমুখ।