৩৪ নম্বর সেঞ্চুরিতে ১১ হাজার রান করে বাবাকে উৎসর্গ করলেন নাঈম ইসলাম

অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগে চার দিনে ম্যাচে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন নাঈম ইসলাম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৪তম সেঞ্চুরি ৩৯ ছুঁই ছুঁই এই ব্যাটারের। পাশাপাশি পৌঁছে গেছেন লাল বলে ১১ হাজার রানের মাইলফলকে। 

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রান তুষার ইমরানের। ১১৯৭২ রান তাঁর। দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ১১ হাজার করেছেন নাঈম। এই ম্যাচের আগে তাঁর রান ছিল ১০৯৫৩। সর্বোচ্চ ৩২টি সেঞ্চুরিও ছিল তুষারের, গত মৌসুমে তাঁকে ছাড়িয়ে যান নাঈম। 

সিলেট অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ডে ২ উইকেটে ৬৫ রান নিয়ে খেলতে নামা রংপুর ১৪৬ রানের মধ্যে আরো তিন উইকেট হারায়। এরপর তানভীর হায়দারকে নিয়ে ৮৮ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় কাটানোর চেস্টা করেন নাঈম ইসলাম। ২৩৪ রানে ৪৫ রান করা তানভীর এবং পরের বলে নাসির হোসেন আউট হয়ে গেলেও খেলে যান নাঈম। আলাউদ্দিন বাবুর সাথে নবম জুটির এক পর্যায়ে তিন অংকে পৌছান ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার। ২০২৩ সালে তুষার ইমরানের ৩২ সেঞ্চুরি টপকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সেঞ্চুরিয়ান হয়েছিলেন নাঈম। দিন শেষে ১১১ রানে অপরাজিত আছেন তিনি। ঢাকার ২২১ রানের জবাবে রংপুরের স্কোর ৮ উইকেটে ৩০৮। 

দিনের শেষ সাংবাদিকদের নাঈম বলেছেন, '১১ হাজার রান আমি আমার বাবাকে উৎসর্গ করতে চাই। আমার বাবার ছোটবেলা থেকেই খুবই ইচ্ছা ছিল যে আমি প্লেয়ার হই, জাতীয় দলে খেলি। উনার খুব স্বপ্ন ছিল যে উনার ছেলে একজন জাতীয় দলের ক্রিকেট প্লেয়ার হবে বা অনেক ইচ্ছা ছিল বাবার যে অনেক বড় প্লেয়ার হবো। হয়তো বা আমি ওরকম হইতে পারিনি অত বড় প্লেয়ার।'

আরিফুল ইসলামের পর নবাগত ময়মনসিংহের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটার আবু হায়দার রনিও। সিলেটে আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ৭ উইকেটে ২৬৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শুরু করা ময়মনসিংহকে ৪০১ রানে নিয়ে যান রনি ১০৭ রানের ইনিংস দিয়ে। ৬৬ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি। ১০৫ বলের ইনিংসে ১০টি বাউন্ডারি ছাড়াও ৬টি ছক্কা হাকান রনি। 

জবাব দিতে নেমে ৫ উইকেটে ১৯৮ রান তুলেছে স্বাগতিক সিলেট। সৈকত আলিকে নিয়ে অধিনায়ক জাকির হাসান ৭৩ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়ার পর জাতীয় দলের বাহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানের ঘূর্ণিতে ৫ উইকেট হারায় সিলেট। সবগুলো উইকেটই নেন রাকিবুল ৬৮ রান দিয়ে। মুশফিকুর রহিম করেছেন ২০।