২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস। এক বিকেলে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নাতনি জাকিয়া বানুর সঙ্গে গল্প হচ্ছিল। অশীতিপর জাকিয়া বানু তার গুলশানের বাসায় বসে আমাকে পুরনো দিনের গল্প শোনাচ্ছিলেন। তার পারিবারিক অ্যালবামে থাকা একটি ছবি দেখিয়ে বললেন, ‘এই ছবিটি তুলেছিলেন কে জানো?’ একটু থেমে গিয়ে তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘এই ছবিটি তুলেছিলেন তখনকার দিনের একজন নামকরা ফটোগ্রাফার- নাম ওয়াজেদ আলী খান। তবে ডব্লিউ এ খান নামেই তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন। সংক্ষেপে তাকে সবাই বলতো, ডব্লিউ খান। তিনি ছিলেন আমার নানার পার্সোনাল ফটোগ্রাফার। নানার বেশিরভাগ রাজনৈতিক ছবিই তার তোলা।’
১৯৪১ সাল। শেরেবাংলা তখন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ওই সময় তিনি একবার ঢাকায় এলেন। উঠলেন পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজারের কায়সার হাউসে। কায়সার হাউস শেরেবাংলার ভাগনি-জামাই সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুরের নিজের বাড়ি। শেরেবাংলার আগমন উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জের এসডিও এএইচএম ওয়াজীর আলী তার দুই কন্যা রাজিয়া বানু ও জাকিয়া বানুকে নিয়ে ঢাকায় এলেন। ওয়াজীর আলী শেরেবাংলার ভাগনে ও বড় মেয়ে অকাল প্রয়াত নাফিসী বেগমের [১৯৩৮ সালে আলসারে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে মুন্সীগঞ্জের ঐতিহাসিক ইদ্রাকপুর কেল্লায় এসসিওর বাসভবনে মারা যান নাফিসী বেগম] স্বামী।
শেরেবাংলার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের ছবি তোলার জন্য ডব্লিও খান রোলিফ্লেক্স ক্যামেরা নিয়ে তৈরি। কায়সার হাউজের সদর দরজার সামনে গালিচা পাতা হলো। তার ওপর বসানো হলো পাঁচটি চেয়ার। মাঝখানের চেয়ারটিতে এসে বসলেন শেরেবাংলা। তার ডানপাশে বসলেন বড় ভাগনি সারা তৈফুর ও সারা তৈফুরের বড় কন্যা লুলু বিলকিস বানু। বাপাশে বসলেন জামাতা ওয়াজীর আলী ও তার বড় কন্যা রাজিয়া বানু। পেছনে দাঁড়ালেন সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুর ও তার ভাগ্নে সৈয়দ হোসেইন আহমেদ। গালিচায় হাঁটু গেড়ে বসলেন তৈফুরের মেজো মেয়ে লায়লা আর্জুমান্দ বানু ও ভ্রাতুষ্পুত্র সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ [তৈফুরের ছোট ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বায়েজীদের ছেলে]। হঠাৎ খেয়াল করে দেখলেন ছবির ফ্রেমে পরিবারের দুই কনিষ্ট সদস্য সারা তৈফুরের ছোট কন্যা মালকা পারভীন বানু ও ওয়াজীর আলীর ছোট কন্যা জাকিয়া বানু নাই। সবাই তাদের খুঁজতে শুরু করলেন। কিন্তু কোথাও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখোঁজির পর একটি আমগাছের চূড়ায় তাদের পাওয়া গেল। গাছ থেকে নামিয়ে দুজনকে দুপাশে দাঁড় করানো হলো। আর তখনই তোলা হলো ছবিটা। ছবিটা দেখিয়ে জাকিয়া বানু বললেন, ‘এই ছবিটি যখন তোলা হয় তখন আমার আর মালকার বয়স ছিল ১১ বছর। একটি ব্যাপার খেয়াল করেছো-‘ছবিতে সবাই খুবই পরিপাটি অথচ আমাদের দুজনের চুলগুলো কেমন এলোমেলো! চুল আঁচড়ানো থাকবে কেমন করে; আমরাতো আমগাছের উপরে বসে খেলছিলাম।’
জাকিয়া বানু বললেন, ‘এই ছবির প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।’ সৈয়দ মোহাম্মদ তৈফুরের ছবিতে তর্জনী রেখে বললেন, ‘আমার ফুপা ঢাকার অভিজাত সমাজে বিদ্বান ব্যক্তিরূপে সমাদৃত ছিলেন। তিনি ছিলেন বাংলার বিখ্যাত দরবেশ সাইয়্যিদ ইবরাহিম দানিশমান্দের বংশধর। মায়ের প্রতি তিনি ভীষণ রকমের শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। শেরওয়ানীর বুক পকেটে তিনি সবসময় মায়ের চুলের সঙ্গে একটি সোনার চেইন জড়িয়ে রাখতেন। প্রাচীন নিদর্শনাদির সংগ্রাহক, লেখক, ইতিহাসবিদ ও কলকাতার রেজিস্ট্রার ছাড়াও তিনি এদেশের নারী জাগরণের অগ্রপথিক ছিলেন। ১৯৫২ সালে গ্লিমসেস অব ওল্ড ঢাকা নামে তিনি একটি বইও লিখেছিলেন। আমার ফুপু সারা তৈফুর নারী মুক্তি, সমাজসংস্কার ও লেখালেখির কারণে ‘কাইজার-ই-হিন্দ’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। তাদের বড় মেয়ে লুলু বিলকিস বানু ভিকারুন্নিসা স্কুলের প্রতিষ্ঠা প্রধান শিক্ষক ছিলেন। মেজো মেয়ে লায়লা আর্জুমান্দ বানু ও ছোট মেয়ে মালকা পারভীন বানু উচ্চাঙ্গসঙ্গী শিল্পী হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছিলেন। সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ ছিলেন বিখ্যাত সাপ্তাহিক চিত্রালীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। তার ডাক নাম ছিল পারু। পারু তার বাবার মৃত্যুর পর কায়সার হাউসে থেকে লেখাপড়া করতেন। আমার বড় বোন জাকিয়া বানু ২৮ বছর বয়সে ১৯৫৪ সালে এমএলএ নির্বাচিত হয়েছিলেন। সত্তরের নির্বাচনে এমএনএ ও তিয়াত্তরে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রনেতাদের মধ্যে একমাত্র নারী। আমার বাবা ছিলেন কবি জীবনানন্দ দাশের ঘনিষ্ট বন্ধু; তারা প্রেসিডেন্সি কলেজে সহপাঠী ছিলেন। মহকুমা প্রশাসক হিসেবে মুন্সীগঞ্জের দাঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শিক্ষাবিস্তারে অবদান রাখায় তাকে ব্রিটিশ সরকার খান বাহাদুর উপাধি দিয়েছিল। আর আমি উপমহাদেশের অন্যতম সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদ সন্তোষ সেন গুপ্তের কাছে গান শিখেছি। ১৬ বছর রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চা করেছি। ঢাকা লেডিস ক্লাব প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলাম।’
জাকিয়া বানু বললেন, ‘তুমি এই ছবিটার অরজিনাল প্রিন্ট পাবে প্রফেসর ইমরান রহমানের কাছে। ইমরান আমার ফুফাতো বোন মালকার ছেলে; ও এখন ইউনিভারর্সিটি অব লিবারেল আর্টসের ভাইস চ্যান্সেলর।’ পরে ইমরান রহমানই আমাকে ইমেইলে ছবিটা পাঠান।
জাকিয়া বানুর সঙ্গে আমার কেমন করে পরিচয় কিংবা কিভাবে তাকে খুঁজে পেলাম সেই গল্পটা বেশ দীর্ঘ। আমি যে স্কুলে পড়েছি সেটি তার বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত। স্কুলটির নাম ভবেরচর ওয়াজীর আলী বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়। ১৯৩৭ সালে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় স্থাপিত হওয়া বিদ্যালয়টি অঙ্কুরেই ধ্বংস করার হীন চেষ্টায় নামে স্থানীয় এক জমিদারের কয়েকজন প্রভাবশালী নায়েব। তখন বিদ্যালয়টির হাল ধরেন মুন্সীগঞ্জের এসডিও ওয়াজীর আলী। সেই স্কুল নিয়ে একটি বিদ্যালয় বৃত্তান্ত নামে আমি একটি গবেষণাধর্মী বই লিখি। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে অ্যাডর্ন পাবলিকেশন থেকে বইটি প্রকাশিত হয়। এই বই লেখার জন্য চার বছর ধরে শেরেবাংলার রক্তের সম্পর্কের কাউকে খুঁজছিলাম। শেরেবাংলার দ্বিতীয় ঘরের ছেলে এ কে ফাইজুল হকের ছেলেকে ফোন করি। তিনি শেরেবাংলার আগের ঘরের কারো সম্পর্কে কোনো তথ্য দিতে পারলেন না। একদিন আমার চাচাতো ভাই সরকারের সাবেক যুগ্মসচিব খুরশীদ আলমের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি জানালেন, তার সহপাঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ হুদা শেরেবাংলার ঘনিষ্ট আত্মীয়। শাহনাজ হুদাকে ফোন করতেই তিনি আমাকে জাকিয়া বানুর সন্ধান দেন।
আমি জাকিয়া বানুকে ফোন করি। আমার পরিচয় পেয়ে ফোনের ওপাশে আবেগে তার কান্না থামে না। পরদিনই তিনি আমাকে তার গুলশানের বাসায় সময় দেন। অত্যন্ত বিদুষী ও মায়াময় এক মানুষ তিনি। আমাকে দেখেই বললেন, ‘তুমি তো দেখি আমার নাতনীদের বয়সী। এখন থেকে আমাকে ‘দাদি’ বলে ডাকবে।’ মজা করে বললেন, ‘আমার নানা আদর করে আমাকে ‘নানি’ ডাকতেন।’ আমি বললাম, ‘শেরে বাংলা যাকে নানি ডাকতেন তাকে দাদি বলতে পারাটাতো আমার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার।’ আমি ছবি তুলি শুনে জানালেন, তার স্বামী কাজী আলাউদ্দীন একজন শৌখিন ফটোগ্রাফার ছিলেন। মানুষের রক্তের সম্পর্কই সব না, আত্মার সম্পর্ক বলেও একটা ব্যাপার আছে। জাকিয়া বানু সেদিন আমাকে তার আত্মায় ঠাঁই দিয়েছিলেন। প্রতি সপ্তায়ই তাকে ফোন করতে হতো। এর ব্যত্যয় হলে তিনি ফোন দিয়ে অভিমান করতেন। মাঝে মাঝে আমি তাকে দেখতে গুলশানে যেতাম। তিনি আমাকে শেরে বাংলার অনেক অজানা গল্প শোনাতেন। তার গল্প শুনে আমার আত্মা পবিত্র হয়ে উঠতো।
ডব্লিউ এ খান অবিভক্ত বাংলার তিরিশ ও চল্লিশের দশকের একজন নামকরা ফটোগ্রাফার ছিলেন। কিন্তু এই প্রজন্মের মানুষ তার সম্পর্কে কিছুই জানে না। জাকিয়া বানুর আলাপে তার নাম না এলে তিনি হয়তো চির আড়ালেই থেকে যেতেন। জাকিয়া বানুর কাছে গল্প শোনার পর ডব্লিউ খানকে নিয়ে আমার কৌতূহল তৈরি হয়। তাকে খুঁজতে গিয়ে পাই সামান্য কিছু তথ্য। বাংলাদেশ ফটোগ্রাফিক সোসাইটির মুখপত্র মাসিক ফটোগ্রাফিতে ‘বাংলাদেশের আলোকচিত্র সাংবাদিকতার সেকাল-একাল’ শিরোনামে তিন পর্বের একটি ধারাবাহিক প্রবন্ধ লেখেন ষাটের দশকের খ্যাতিমান ফটোসাংবাদিক আবদুল মতিন। পত্রিকাটির মার্চ, ১৯৯৩ সংখ্যায় তার শেষ পর্বের প্রবন্ধ পাঠে জানা যায়, কলকাতায় জন্ম নেওয়া ডব্লিউ খান খুবই বিচিত্র জীবনের অধিকারী ছিলেন। প্রথম জীবনে দর্জি দোকানের কারিগর ছিলেন। পরে তিনি টেইলারিং মাস্টার হন। ওই সময় এক বন্ধুর কাছ থেকে পান একটি কোডাক বক্স ক্যামেরা। ছবি তোলার নেশায় তার আর দর্জিকাজে মন বসে না। ওই সময় মওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় দৈনিক আজাদ। ডব্লিউ খান আজাদের ফটোসাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের ছবি তুলতে শুরু করেন। ওই সময়ই তিনি শেরেবাংলার সুনজরে পড়েন। ১৯৩৭ সালে শেরেবাংলা অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে ডব্লিউ খানকে তার অফিশিয়াল ফটোগ্রাফার নিয়োগ করেন। দেশভাগের পর ডব্লিউ খান ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তথ্য দপ্তর বা পিআইডিতে যোগ দেন। পিআইডির ফটোগ্রাফি সেকশনের কার্যক্রম শুরু হয় তার যোগদানের মধ্য দিয়ে। শুরুতে ফটো সেকশনের নিজস্ব ডার্করুম ছিল না। ওই সময় তিনি ৪৮ নম্বর নবাবপুর রোডের ‘স্টুডিও এইচ’ থেকে ফিল্ম ডেভেলপ ও ছবি প্রিন্ট করতেন। একজন শৌখিন সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে সরকারি মহলে তাঁর বেশ সুনাম ছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অকৃতদার ছিলেন এবং খুবই নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যান।
ডব্লিউ খান সম্পর্কে ব্যতিক্রমী তথ্য পাওয়া যায় প্রখ্যাত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদের মধ্যরাতের অশ্বারোহী গ্রন্থের ‘ফেরে নাই শুধু একজন’ শিরোনামের প্রবন্ধে। এই গ্রন্থের ১৪৬ নম্বর পৃষ্ঠায় ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘সরকারি ফটোগ্রাফারদের মধ্যে ডব্লিউ খান নামে পরিচিত একজন ফটোগ্রাফার ছিলেন, যার ছবি তোলার অনেক কাহিনি আছে। তার ছবি তোলার স্টাইলটাই ছিল আলাদা। বেশিরভাগ সময়েই তিনি দু’হাতে মাথার ওপর রোলিফ্লেক্স ক্যামেরা উল্টো করে তুলে আকাশের দিকে ঘাড় বাঁকিয়ে ছবি তুলতেন। সময়ও নিতেন একটু অধিক। ফলে তিনি আসল সাবজেক্ট প্রায় হারাতেন। অর্থাৎ তাৎক্ষণিক তোলার মতো বিষয়টি বিলম্বের ফলে ফসকে যেত। পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীন কিন্তু খান সাহেবের এই ক্যামেরা অ্যাক্রোব্যাটস উপভোগ করতেন; এমনও দেখা গেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী দর্জি দোকানের প্রাক্তন কাটার খান সাহেবকে একই ছবি তোলার দু-তিনবার চান্স দিয়েছেন।’
ডব্লিউ খান সম্পর্কে এমন চমকপ্রদ তথ্য পেয়ে তার মুখের ছবি দেখার খুব ইচ্ছে জাগে। পত্রিকা ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে ১৯৬৪ সালের ২০ আগস্ট দ্য পাকিস্তান অবজারভারের সপ্তম পৃষ্ঠায় পাই ‘ফটোগ্রাফার অন ওয়ে টু লন্ডন’ শিরোনামে একটি সংবাদ। সেই সংবাদের সঙ্গে ছাপা হয়েছিল তার একটি পাসপোর্ট সাইজ ছবি। বহুমূত্র ও পেশির স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ওই সময় লন্ডনের বিখ্যাত সেন্ট নিকোলাস হাসপাতালের নিউরো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এস কারানির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। পাকিস্তান অবজারভার ওই খবরের সঙ্গে ডব্লিউ খানের ছবি না ছাপলে এই পথিকৃৎ সংবাদচিত্রীর মুখটি চিরদিনের জন্য সবার অদেখা থেকে যেত।