বরিশাল নগরীতে এক গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার দুপুরে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রাকিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের ধান গবেষণা সড়কের রাসেল গাজী (৪৫), একই ওয়ার্ডের গ্যাস টারবাইন এলাকার ভাড়াটিয়া মো. রোকন খান (৩৩), ধান গবেষণা সড়কের খেয়াঘাট এলাকার রাজিব জমাদ্দার (৩৫) ও জাহিদ হাওলাদার (৩৬)।
মামলার অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে দলবদ্ধ ধর্ষণের সময় ভুক্তভোগী গৃহবধূর বয়স ছিল ১৮ বছর। তিনি ধান গবেষণা সড়কের খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। আসামি রাসেল গাজী ছিলেন তাদের প্রতিবেশী।
ওই বছরের ৯ নভেম্বর বিকেলে গৃহবধূর মা-বোন বেড়াতে গেলে একা পেয়ে রাসেল তার ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। গৃহবধূ প্রতিরোধ করলে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি বঁটি হাতে নেন। এতে রাসেল পালিয়ে যায়। মা ফিরে এলে বিষয়টি জানানো হলে তারা রাসেলের পরিবারের কাছে নালিশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় রাসেল।
পরদিন সন্ধ্যায় গৃহবধূ তার মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে স্বামীর কর্মস্থলের দিকে রওনা দেন। সঙ্গে ছিল এক লাখ টাকা। পথে একটি অটোরিকশায় চালক নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে উল্টো দিকে যেতে শুরু করে। পেছনে কয়েকজন মোটরসাইকেলে অনুসরণ করছিল। একটি নির্জন স্থানে পৌঁছে গৃহবধূর হাত-পা বেঁধে বাগানে নিয়ে গিয়ে কয়েকজন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। অচেতন হয়ে পড়লে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।
ট্রাইব্যুনালের পেশকার অজিবর রহমান জানান, রায় ঘোষণার সময় রোকন খান ছাড়া অন্য তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিচার চলাকালে জামিনে থাকা রোকন খান আত্মগোপনে চলে যায়।
গ্রেপ্তারের পর চার আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলায় শুরুতে অজ্ঞাতনামা আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হলেও পুলিশ তদন্ত শেষে এজাহারে নাম থাকা চারজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল করে।