থাইল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে হেরে দুই ম্যাচ প্রীতি সিরিজের শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সে ম্যাচ শেষে মেয়েদের নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন কোচ পিটার বাটলার। কিছু ফুটবলারের মানসিকতারও কড়া সমালোচনা করেছিলেন ব্রিটিশ কোচ। তবে আরেকটি ম্যাচের আগে সুর বদলে ফেলেছেন তিনি। তবে আজ স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে সামর্থ্যরে সেরাটা চাচ্ছেন কোচ।
তিন দিন আগে প্রথম ম্যাচের শুরুর মিনিটেই গোল হজম করেছিল বাংলাদেশ। সেটাই চাপে ফেলে দেয় পুরো দলকে। শুরুর সেই ধাক্কা পরে আর সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫১ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ড দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। বাধ্য হয়েই খেলার কৌশলে কিছু পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করেছেন কোচ। সেই সঙ্গে আগের ম্যাচের ঘাটতির জায়গাগুলো পূরণ করে একটা ভালো পারফরম্যান্সের আশা করছেন তিনি, ‘আমরা সিস্টেমে কিছুটা পরিবর্তন এনেছি। কিছু কিছু জায়গা ঘাটতি রয়েছে আমাদের, সেটা পূরণ করতে হবে। আগের ম্যাচে মেয়েরা যেভাবে খেলেছে তা নিয়ে সত্যিকার অর্থে আমার কোনো সমস্যা নেই। তারা ভালো ফুটবল খেলেছে। তবে আমরা মৌলিক কিছু ভুল করেছি যেমন প্রথম ৪৫ সেকেন্ডে গোল হজম করা, যা সবসময় পাহাড়সম চাপ বয়ে আনে। তবে অনুশীলনে মেয়েদের মানসিকতা খুবই ভালো ছিল। আমি সন্তুষ্ট। কয়েকজনের সঙ্গে আমি আলাদাভাবে কথা বলেছি। তাদের এপ্রোচ ও মাইন্ডসেট নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। বিশেষ করে এক-দুজন আছে, যাদের আমি সত্যিকারের ম্যাচ উইনার মনে করি এবং আগের ম্যাচে তারা তাদের সামর্থ্যটা মেলে ধরতে পারেনি।’
বাংলাদেশ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে গিয়ে ইতিহাস গড়লেও ধারে ভারে এগিয়ে থাকার পরও অল্পের জন্য মূল পর্বে যেতে পারেনি থাইল্যান্ড। ভারতের কাছে শেষ ম্যাচে হারে বাছাই উতরানো হয়নি তাদের। থাইল্যান্ড বাদ পড়লেও বাটলার মনে করেন, দল হিসেবে তারা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে, ‘এটা মানতে হবে আমরা থাইল্যান্ডের পর্যায়ে নেই। মানতে হবে তারা খুবই ভালো দল এবং সেটা তারা দেখাবেও। (আগামীকাল) তারা সম্ভবত পুরো ভিন্ন এক দল মাঠে নামাবে। অনেক সময় বেঞ্চ দেখে দলের শক্তি বোঝা যায়। তাদের বেঞ্চ দেখে মনে হলো এখানে আরেকটা দল বসে আছে। তাই আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। অবশ্যই আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের সমস্যায় ফেলার। তবে আমি বাস্তববাদী মানুষ। আমি চাই মানুষও থাইল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার আগে থাইল্যান্ডকে এগিয়ে থাকা দল, সেটা চিন্তা করুক।’
থাইল্যান্ডের প্রস্তুতিতে পুরো দলকে এক সঙ্গে খুব অল্প সময় পেয়েছিলেন বাটলার। ভুটান লিগে খেলার কারণে ৯ ফুটবলার স্রেফ দুই সেশন অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছেন পুরো দলের সঙ্গে। এই ৯ ফুটবলারের বেশিরভাগই দলের মূল অস্ত্র। বাটলার মনে করেন এখানেও তার দলে কিছুটা খামতি রয়েছে, ‘৯ ফুটবলার আমাদের সঙ্গে কেবল দুদিন অনুশীলন করেছে, যারা দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শেষবার যখন বাংলাদেশ থাইল্যান্ডে খেলেছে, তখন ৬ কিংবা ৭-০ (আসলে ৯-০) গোলে হেরেছিল মনে হয়। আমরা অবশ্যই জিততে চাই। তবে সব কিছু বিচার করতে বাস্তবতা মাথায় রেখে।’