ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার আবারও ক্যারিয়ারের মোড়ে দাঁড়িয়ে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামিতে লিওনেল মেসির সঙ্গে পুরোনো ‘এমএসএন’ ত্রয়ী (মেসি-সুয়ারেজ-নেইমার) গঠনের সম্ভাবনা, অন্যদিকে নিজ ক্লাব সান্তোসে আরও কিছুদিন থাকার প্রস্তাব।
৩৩ বছর বয়সী নেইমারের বর্তমান চুক্তি শেষ হতে চলেছে সান্তোসের সঙ্গে। ২০২৫ সালের শেষের আগে তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভবিষ্যৎ নিয়ে। গত জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল থেকে মুক্ত খেলোয়াড় হিসেবে সান্তোসে ফেরেন তিনি। তবে ইনজুরির কারণে মাঠে নামা হয়নি খুব বেশি; হ্যামস্ট্রিং সমস্যা তাঁকে আবারও ছিটকে দিয়েছে মাঠের বাইরে।
সান্তোসের অবস্থাও ভালো নয়—রেলিগেশন লড়াইয়ে ব্যস্ত ক্লাবটি। ফলে নেইমারের ফিরে আসা ঘিরে যে আশার আলো জ্বলেছিল, তা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।
স্প্যানিশ দৈনিক স্পোর্ত জানায়, নেইমার এমন একটি গন্তব্য খুঁজছেন যেখানে তিনি আবারও মিডিয়ার আলোচনায় আসতে পারেন এবং জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে বোঝাতে পারেন যে তিনি এখনও বিশ্বকাপের যোগ্য। ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপে (যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে) অংশ নেওয়া তাঁর বড় লক্ষ্য।
তবে ইউরোপীয় ক্লাবগুলোর আগ্রহ এখন নেইমারের দিকে নেই বললেই চলে। তাঁর বয়স, ইনজুরি ও ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইউরোপের বড় দলগুলো দূরে থাকছে। অনেকেই মনে করছেন, নেইমারের ক্যারিয়ার এখন “নিচের দিকে নামছে”—এমনকি কেউ কেউ বলছেন, “একটা শেষ না হওয়া ট্র্যাজেডি” চলছে তাঁর জীবনে।
বর্তমানে দুটি বিকল্পই খোলা আছে তাঁর সামনে। একটি হলো সান্তোসের সঙ্গে আরও ছয় মাসের চুক্তি বাড়ানো। আরেকটি—ইন্টার মায়ামিতে যাওয়া, যেখানে আছেন তাঁর পুরোনো বন্ধু মেসি ও লুইস সুয়ারেজ।
নেইমার নিজেই আগেও বলেছিলেন, “আবার মেসি আর সুয়ারেজের সঙ্গে খেলা দারুণ হবে। আমরা এখনো যোগাযোগ রাখি। এই ত্রয়ীকে ফিরিয়ে আনা খুবই আকর্ষণীয় হবে।”
এমএলএস ক্লাব ইন্টার মায়ামিও নাকি এমন চুক্তিতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাপন, তারকা সংস্কৃতি এবং মিডিয়ার আলোকবৃত্ত—সব মিলিয়ে এই গন্তব্য নেইমারের মনেও টানছে। এখন দেখার বিষয়, তাঁর ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় কোথায় শুরু হয়—নিজ দেশে না মেসির পাশে আমেরিকায়।