গৌরীপুরে ফসলের সাথে শত্রুতা ধানখেত মেরে ফেলার অভিযোগ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ছিলিমপুর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জের ধরে ৩ কৃষকের ৩০০শতাংশ জমিতে ঘাস মারার ওষুধ দিয়ে ধান গাছ মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগ দায়ের করেন ছিলিমপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলী ফকিরের পুত্র মো. আব্দুল কদ্দুছ। এ ঘটনায় প্রায় ১ লাখ ৭০হাজার টাকার ধান ও ধানের খড় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিসার ও গৌরীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন কৃষক আব্দুল কদ্দুছ।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. দিদারুল ইসলাম জানান, কৃষকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আবেদনটি আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গৌরীপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমান জানান, ধানখেতে বিষাক্ত ওষুধ দেয়ায় কচিধানগুলো জ্বলসে যাওয়া মতো হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার আনজুম জলি জানায়, ওই ধানের খেতে কোনো রোগবালাই বা কীট-পতঙ্গের আক্রমণ নেই। কৃষক বলেছে, ঘাস মারার ওষুধ দিয়ে তার ধানখেতের ফসল নষ্ট করে দেয়া হয়েছে। 

কৃষক মো. আব্দুল কদ্দুছ জানান, গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার ভাতিজা মো. রুবেল মিয়া ও আরও ৩জন তাদের জমি মেশিন দিয়ে কি যেনো ছিটিয়েছে। লাইটের আলো দেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ৩/৪দিন যাওয়ার আস্তে আস্তে ধানের সবুজ খেতে কালচে ও হলুদাভ রঙ ধারণ করতে থাকে। স্থানীয় কৃষকরা এসে দেখে বলেছে, আগাছানাশক দিয়ে তার ধানের খেতের ফসল মেরে ফেলা হয়েছে। দিন যতোই যাচ্ছে, সবুজ ধানের খেত ততই মনে হচ্ছে পুড়ে যাচ্ছে। এ ওষুধে আব্দুল কদ্দুছের ১৪০শতাংশ, খায়রুল ইসলামের ৮০শতাংশ ও গোলাম মোস্তফার ৮০শতাংশ জমির ধান ও ধানের খড় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এছাড়াও বুধবার রাতে গোয়াল ঘর থেকে ১লাখ ৩০হাজার টাকা মূল্যের ২টি গরু চুরি হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, রুবেল মিয়া হলো তার ভাতিজা। পারিবারিক ও জমিসংক্রান্ত দীর্ঘদিন যাবত তার সাথে বিরোধ চলছে। 

এ ঘটনায় রুবেল মিয়াকে মুঠোফোনে কল দিলেও পাওয়া যায়নি। রুবেলের আম্মা মোছা. রুকিয়া খাতুন জানান, দেড় মাস যাবত রুবেল মিয়া বাড়িতে আসে না। তাহলে খেতে এ ওষুধ দিলো কে? তবে তাদের সাথে জমি সংক্রান্ত বিরোধ আছে। আমার জমি তারা ভোগদখল করে আছে, আমিও তাদের জমিতে আছি।