ম্যারাডোনা আমাদের আদর্শ, সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার পাত্র: মেসি

ন্টার মায়ামির সঙ্গে ২০২৮ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করে ফেলেছেন লিওনেল মেসি। ফলে ৪১ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি পেশাদার ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পরিবার নিয়ে জীবন বেশ উপভোগ করছেন মেসি। সম্প্রতি এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি তার বর্তমান জীবন, শৈশবের সংগ্রাম এবং ক্রীড়া জগতের আদর্শদের নিয়ে মুখ খুলেছেন।

মায়ামির সাথে চুক্তি নবায়নের সিদ্ধান্ত কঠিন ছিল কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মেসি বলেন, ‘আমি সবসময় আমার বর্তমান শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেই। ক্লাবটির অংশ হিসেবে খেলা চালিয়ে যেতে আমি শারীরিকভাবে ও মানসিকভাবে কেমন আছি, সেটাই মুখ্য। গত বছর আমি খুব ভালো অনুভব করেছি। পরিবার নিয়ে মায়ামিতে সুখে আছি।’

সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ বা G.O.A.T হিসেবে মেসি বলেছেন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং মাইকেল জর্ডানের কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের আর্জেন্টাইনদের জন্য ম্যারাডোনা সবসময়ই সর্বোচ্চ আদর্শ এবং সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার পাত্র। যদিও আমি ছোট ছিলাম এবং তাকে খুব বেশি খেলতে দেখিনি, কিন্তু ডিয়েগো সবকিছুর ঊর্ধ্বে ছিলেন। অন্য খেলার কথা বলতে গেলে, জর্ডানের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।’

এছাড়াও, টেনিসে রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচকে শ্রদ্ধা করেন মেসি। বাস্কেটবলে লেব্রন জেমস এবং স্টেফেন কারির খেলাও তিনি খুব উপভোগ করেন বলে জানান। শৈশবে আর্জেন্টিনা থেকে বার্সেলোনাতে একাকী পাড়ি জমানোর দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, তার পরিবার থেকে শেখা মূল্যবোধই তাকে জীবনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

 এমএলএসের অগ্রযাত্রা নিয়ে মেসি বলেন, ‘দলগুলোকে বড় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কিছু পরিবর্তন আনা দরকার। শুরুতেই প্রতিটি দল যেন খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা বা নিয়ম ছাড়াই যাকে খুশি তাকে চুক্তিবদ্ধ করতে পারে। এই স্বাধীনতা দেওয়া হলে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এমএলএস-এ খেলতে আগ্রহী হয়ে উঠবেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর মেসি এখন পর্যন্ত ৮৩ ম্যাচে ৭৩ গোল এবং ৩৭টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ৩৮ বছর বয়সেও তার এই অসাধারণ ধারাবাহিকতা আগামী বছরের বিশ্বকাপ মিশনে আর্জেন্টিনার জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।