ইসিতে ১৮ দফা প্রস্তাব

ইসলামী ব্যাংক-ইবনে সিনার মালিকানা জামায়াতের নয়: মিয়া গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন,  ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল এবং ইবনে সিনা হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জামায়াতের কোনো ধরনের মালিকানার সম্পর্ক নেই।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। সকালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইবনে সিনা-ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নির্বাচনী দায়িত্ব না দিতে বিএনপির আপত্তির বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির দাবি আমাদের জন্য দুঃখজনক। এটার ঘোর আপত্তি জানাই। ইসলামি ব্যাংক, ইবনে সিনার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতের কোনো মালিকানার সম্পর্ক নেই। তারা এটা বিতর্কিত করছে। বিএনপিও অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান চালায়। আমরাও অভিযোগ দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ না দেওয়ার বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী। আমরা চাই সব দল সমান সুযোগ ও অধিকার নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিক। দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাই যেন দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কাজ করে।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর ৩৬ দফার এক প্রস্তাবনা সিইসিকে দিয়েছে বিএনপি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা পোলিং পারসোনাল তথা প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সর্বমহলের কাছে চিহ্নিত এমন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেওয়া যাবে না। যেমন- ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা ইত্যাদি।

তবে বিএনপির প্রস্তাবনা বিতর্কিত দাবি করে নির্বাচন কমিশনে পাল্টা ১৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত। নির্বাচনী আইন (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে যে বিধান রাখা হয়েছে- প্রত্যেক রাজনৈতিক দল নিজ নিজ প্রতীকে ভোট করবে- জামায়াত এই সংশোধনের পক্ষে বলে জানিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, এটি বাতিলের চেষ্টা হলে তা হবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ভঙ্গের নগ্ন উদাহরণ।

এদিন জামায়াতের সাত সদস্যের প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. এইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ, প্রচার সেক্রেটারি ইসলাম বুলবুল এবং ঢাকা মহানগর উত্তর আমির মো. সেলিমউদ্দিন।

জামায়াতের ১৮ দফা

১. জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রদানের লক্ষ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পরেই আগামী নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।

২. উপদেষ্টা পরিষদে গৃহীত সর্বশেষ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল তাদের নিজস্ব দলীয় প্রতীক ব্যবহার করবে; অন্য কোনো দলের প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধান বহাল রাখতে হবে।

৩. নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রত্যেক স্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত প্রিসাইডিং, পোলিং, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে।

৫. সব ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ সামরিক বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করতে হবে।

৬. সব ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

৭. বিগত বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগামী নির্বাচনে নির্বাচনী দায়িত্ব দেওয়া যাবে না। মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের (ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসি) নিয়োগ শতভাগ লটারির ভিত্তিতে দিতে হবে।

৮. রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগে প্রশাসনের অফিসারদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেও নিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯. সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনের কমপক্ষে এক সপ্তাহ আগে সামরিক, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।

১০. নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে নির্বাচনী মাঠ সমতল করা হবে।

১১. সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে, অতীতে দলীয় প্রয়োজনে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে তা সরকারের কাছে জমা করতে হবে।

১২. নির্বাচনী এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

১৩. ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকায় ও বহির্ভূত স্থানে সন্ত্রাসী তৎপরতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে দমন করতে হবে।

১৪. ভোটার তালিকায় ভোটারদের ছবি স্পষ্ট না হলে তা সংশোধন করে চিত্রসহ তালিকা পোলিং অ্যাজেন্টদের যথাসময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৫. নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত পোলিং, প্রিসাইডিং অফিসার, আনসার ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দিতে হবে।

১৬. প্রবাসী ভোটারদের ভোট প্রদানের পদ্ধতি সহজ করতে ভোটার আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট যেকোনো একটির মাধ্যমে ভোট প্রদানের সুযোগ দেওয়া হোক, রেজিস্টার্ড প্রবাসী ভোটারদের তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোকে যৌক্তিক সময়ে সরবরাহ করতে হবে।

১৭. নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করতে হবে।

১৮. অতীতে ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়ে থাকলে অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করতে হবে।