মিয়া গোলাম পরওয়ার

জুলাই সনদ অকার্যকর করতেই নির্বাচনের দিন গণভোট চাচ্ছে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, যারা জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট চায় তারা জুলাই সনদকে অকার্যকর করতে চায়। তাদের খারাপ উদ্দেশ্য জাতি বুঝে গেছে। এরা প্রথমত জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতেই রাজি হয়নি। পরবর্তীতে অন্য সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য দেখে কৌশলগত কারণে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে একমত হলেও তারা দ্বিধায় রয়েছে। এজন্য তারা গণভোটের পক্ষে মত দিলেও গণভোট আয়োজন নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে নানারকম ভ্রান্ত যুক্তি উপস্থাপন করছে। 

মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল পূর্বক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডবে সংঘটিত নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এই সমাবেশ হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, এ দেশের জনগণ বোকা নয়, জনগণকে ধোঁকা দেওয়া যাবে না। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদের আদেশ জারি করে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট দিতেই হবে।

তিনি বলেন, তিন দশক/চার দশক আগের ঘটনায় মিথ্যা মামলা সাজিয়ে বিচার হতে পারলে ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় প্রকৃত আসামিদের বিচার কেন হবে না?

দ্রুত বিচার আইনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ২৮ অক্টোবরের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের উত্থান শুরু। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দিল্লি বসে হাসিনা দেশে নভেম্বরে নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার আগেই হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নিষিদ্ধ করতে হবে।

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নিষিদ্ধ না করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে না। তারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে নির্বাচন বিতর্কিত করার চেষ্টা করবে। জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সরকারের ভেতরে বাহিরে থাকা ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে গোয়েন্দা বিভাগকে শক্তিশালী করতে হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক দিন। এই দিনটি পল্টন ট্র্যাজেডি হিসেবে পরিচিত। ঐ ঘটনায় মামলা হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বেআইনিভাবে বাতিল করে দিয়েছিল। তিনি মামলা পুনরুজ্জীবিত করার দাবি জানিয়ে বলেন প্রকৃত অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। 

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের পরিচালনায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন  সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন (ঢাকা -৮ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী), কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন (ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী), কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন (ঢাকা-৫ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী), কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মো. শামছুর রহমান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ (ঢাকা-৯ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী), মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে মোকাররম হোসাইন খান, এস. এম কামাল উদ্দিন, আব্দুস সালাম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন (ঢাকা -৪ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী), ড. মোবারক হোসেন (কুমিল্লা-৫ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী), কামরুল আহসান হাসান, শাহীন আহমেদ খান, মাওলানা শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা শাপলা চত্বরে পরিচালিত গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারের মতো ২৮ অক্টোবরের শহীদদের পরিবারকেও রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা এবং সম্মাননা প্রদান করার দাবি জানান। সমাবেশ শেষে, বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু করে বিজয়নগর-কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ছুটে যায়। মিছিলে হাজার-হাজার নেতাকর্মী ২৮ অক্টোবরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে।