দক্ষ জনগোষ্ঠীই মানবসম্পদ

অধিকাংশ মানুষ জানেন মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশের জনগোষ্ঠী বিশাল সম্পদে পরিণত হয়। অর্থনীতির অন্যতম মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মানুষকে অর্থনৈতিক দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত করা। দক্ষ শ্রমশক্তিসম্পন্ন মানুষই দেশের মানবসম্পদ। আবার অদক্ষ মানুষকে শ্রমশক্তিসম্পন্ন মানুষে পরিণত করাই হচ্ছে মানবসম্পদ উন্নয়ন। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য মানবসম্পদের উন্নয়ন প্রয়োজন। কোনো অদক্ষ মানুষ নয়, শুধু দক্ষ মানুষই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশি^ক নতুন অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ অত্যাবশ্যক বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, পরিবর্তনশীল তথ্যপ্র্রযুক্তির বর্তমান সময়ের অর্থনৈতিক কার্যক্রম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অধিক হারে মনোনিবেশ করতে হবে। সোমবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে স্মার্ট মানবসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তাদের বিভিন্ন কথায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি শিক্ষা ও শিল্প খাতের সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়েছে।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ জানাচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে, আগামী পাঁচ বছরে চাকরির বাজার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বদলে যাবে এবং দেশের এলডিসি-পরবর্তী সময়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্মার্ট মানবসম্পদই হবে একমাত্র হাতিয়ার। তবে তাদের প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের কর্মসংস্থানে নিজেদের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিকহারে গুরুত্বারোপ এবং শিক্ষা ও শিল্প খাতের সমন্বয় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। মূল প্রবন্ধে নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলছেন এটুআই ও ইউএনডিপির ২০১৯ সালের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ২০৩০ সালে দেশের তৈরি পোশাক, খাদ্য ও কৃষি, ফার্নিচার, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে প্রায় ৫৩ দশমিক ৮ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় দেশে কর্মরত মানবসম্পদকে প্রযুক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর অধিক হারে গুরুত্বারোপ করতে হবে।

বিশ্বায়নের যুগে, বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দক্ষ মানবসম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখে। মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক এবং যুগোপযোগী শিক্ষার বিকল্পহীন। দুঃখজনকভাবে সত্যি, আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে পরিণত করতে পারেনি। ফলে মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে এবং দেশ বাঁচাতে চাইলে দক্ষ মানবসম্পদ জনগোষ্ঠী তৈরিতে মনোযোগী হওয়া দরকার। না হলে, কোনো কিছুই টিকবে না। অদক্ষ এবং অকর্মণ্য জনগোষ্ঠী দিয়ে বিশে^র সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ব। তখন হা-হুতাশ করে লাভ নেই। সরকার, রাজনৈতিক দল এবং ছাত্রসমাজকে এ বিষয়ে অসম্ভব সতর্ক থাকতে হবে।