যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ায় পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা আগে নিজেদের পশ্চিম উপকূলে একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ইয়েলো সি থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিক্ষেপ করা হয়। সেগুলো আকাশে দুই ঘণ্টার বেশি সময় অবস্থান করে। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা পাক জং চন এর তদারকি করেন। তিনি বলেন, এটি দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
পাক জানান, বিভিন্ন কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং শত্রুদের কাছে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করা এই উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য ছিল। নিরবচ্ছিন্নভাবে পারমাণবিক যুদ্ধ প্রস্তুতি জোরদার করা উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
তবে এবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ছিলেন না উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন—যিনি সাধারণত বড় ধরনের অস্ত্র পরীক্ষাগুলো সরাসরি তদারকি করলেও এই পরীক্ষায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন । কেসিএনএর গত সপ্তাহের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিবেদনের মধ্যেও কিমের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সময় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ একেবারেই কাকতালীয় নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম কোরীয় উপদ্বীপ সফরের ঠিক আগে এ পরীক্ষা সঞ্চালন করা হয়। ট্রাম্প সফর চলাকালীন কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে পিয়ংইয়ং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ কোরিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়াং মুজিন বলেন, ট্রাম্পের সফরের আগমুহূর্তে এই উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার বার্তা স্পষ্ট করেছে- তারা নিজেদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারে অটল এবং নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করবেনা।
ক্যুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল চুল এর ভাষ্যমতে এটি মূলত অভ্যন্তরীণ বার্তা দেওয়ার কৌশল,কোন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়।