ডিসেম্বরে পদত্যাগ করবেন ২ ছাত্র উপদেষ্টা!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তনের আলোচনা তুঙ্গে। ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচন কমিশন ভোটের তফসিল ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলম পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন।

অন্তর্বর্তী সরকার ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই এ দুই উপদেষ্টা তাদের পদ ছাড়বেন। তারা উভয়েই আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন বলেও জানা গেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে দুই ছাত্র প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হন। প্রথমদিকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও ছিলেন, যিনি পরে পদত্যাগ করে সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেন। বর্তমানে আসিফ মাহমুদ স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন আর মাহফুজ আলম তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।

সম্প্রতি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করে ‘দলীয় ঘনিষ্ঠ’ উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি জানান। তারা প্রকাশ্যে কারও নাম উল্লেখ না করলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইঙ্গিতটি দুই ছাত্র উপদেষ্টার দিকেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, উপদেষ্টা পরিষদের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতিমধ্যে আসিফ ও মাহফুজকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তারা ডিসেম্বরের শুরুতেই পদ ছাড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত ১৪ আগস্ট সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ মাহমুদ বলেন, যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তফসিল ঘোষণার আগেই দায়িত্ব ছাড়া উচিত। এতে নির্বাচন নিরপেক্ষ থাকবে। তবে পদত্যাগের পর এনসিপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাকে নিশ্চিত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সম্প্রতি বলেছেন, তিনি ‘দুই মাস ধরে অনিশ্চয়তায় আছেন’-কখন পদত্যাগ করবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি। মে মাস থেকেই রাজনৈতিক দলগুলো তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে।

রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজ আলম সম্ভবত লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচন করবেন। বিএনপি-এনসিপি জোটগত কারণে এ আসন ছাড়তে পারে, ফলে তিনি বিএনপি বা এনসিপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারেন। অন্যদিকে আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, তবে এনসিপির নীরব সমর্থন তার পক্ষে থাকবে।

মাহফুজ আলমের ভাই ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আলম বলেন, যদি তিনি পদত্যাগ করেন, তাহলে রামগঞ্জ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এনসিপির একাধিক নেতা জানান, দুই উপদেষ্টা সরাসরি দলে যোগ না-ও দিতে পারেন, তবে নির্বাচনের পর তাদের এনসিপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, যে কেউ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থেকে রাজনীতিতে আসতে চাইলে আগে পদত্যাগ করতে হবে। এরপর দলে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে নেওয়া হবে।

এনসিপির মিডিয়া সেল সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, তারা যদি পদত্যাগ করে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চান, আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাবো। তবে এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ছাত্র উপদেষ্টা থাকা প্রয়োজন। তাদের না থাকলে সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়বে।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রধান আলোচ্য বিষয়-ডিসেম্বরে পদত্যাগ করবেন কি না ২ ছাত্র উপদেষ্টা।